ঢাকা, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরল কমানোর কার্যকর উপায়

২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৩:১৪:৪৫

প্রাকৃতিক উপায়ে কোলেস্টেরল কমানোর কার্যকর উপায়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বা লো-ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন (LDL) নিয়ন্ত্রণে রাখতে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ LDL মাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, কারণ এটি ধমনীর দেয়ালে জমে প্লাক তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও, সঠিক অভ্যাস গড়ে তুললে প্রাকৃতিকভাবেই LDL কমানো সম্ভব।

LDL কী এবং এটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

LDL-কে সাধারণত ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এর উচ্চ মাত্রা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসে ভূমিকা রাখে, যা ধমনীতে প্লাক জমার প্রক্রিয়া। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, এটি ধীরে ধীরে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। নিচে প্রাকৃতিকভাবে LDL কমানোর কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো—

১. দ্রবণীয় ফাইবার গ্রহণ বাড়ান

দ্রবণীয় ফাইবার পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা রক্তে প্রবেশের আগেই বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি সময়ের সঙ্গে LDL কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ওটস, বার্লি, শিম, মসুর ডাল, আপেল, লেবু এবং ইসবগুলের ভুসি ভালো উৎস।

২. স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট বেছে নিন

স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ করলে LDL কমতে পারে এবং HDL বাড়তে সহায়তা করে। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো, বাদাম, বীজ এবং স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল মাছ উপকারী।

৩. প্ল্যান্ট স্টেরল ও স্ট্যানল যুক্ত করুন

উদ্ভিদজাত এই যৌগগুলো অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমায়। গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ২ গ্রাম গ্রহণ করলে LDL ৮% থেকে ১২% পর্যন্ত কমতে পারে। দই, স্প্রেড, বাদাম, বীজ ও শস্যদানা এতে সমৃদ্ধ।

৪. শারীরিক কার্যকলাপ বাড়ান

নিয়মিত ব্যায়াম HDL বাড়ায় এবং LDL ও ট্রাইগ্লিসারাইড কমায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়ামের পরামর্শ দেয় যেমন দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং, সাঁতার ও অ্যারোবিক অনুশীলন।

৫. স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখুন

ওজনের ৫-১০% কমালেও LDL কমে এবং হৃদস্বাস্থ্য উন্নত হয়। অতিরিক্ত ওজন হরমোন, প্রদাহ ও কোলেস্টেরল বিপাকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৬. চিনি ও প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট কমান

অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট HDL কমিয়ে LDL ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায়। তাই চিনিযুক্ত পানীয়, বেকারি পণ্য, সাদা শস্যের পরিবর্তে গোটা শস্য, শাকসবজি ও চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত।

৭. স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণ করুন

গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি (চিনি ছাড়া), পানি, লেবুপানি ও ডাবের পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যে সহায়তা করে।

৮. ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করুন

ধূমপান HDL কমায় এবং রক্তনালীর ক্ষতি করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়াতে পারে এবং LDL বিপাকে প্রভাব ফেলে। এসব অভ্যাস ত্যাগ করলে হৃদস্বাস্থ্য উন্নত হয়।

৯. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন

দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপ হরমোনের ভারসাম্য ও প্রদাহ বাড়িয়ে কোলেস্টেরল প্রোফাইল খারাপ করতে পারে। ধ্যান, যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও বাইরে সময় কাটানো চাপ কমাতে সহায়ক।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত