ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অ্যাজমা: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা জরুরি

২০২৬ মে ১৮ ২০:৫৯:২৬

অ্যাজমা: কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা জরুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক: অ্যাজমা বা হাঁপানি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের একটি জটিল রোগ হিসেবে পরিচিত, যা মূলত ফুসফুসের ক্ষুদ্র শ্বাসনালিগুলোকে প্রভাবিত করে। এতে শ্বাসনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে তা সংকুচিত হয়ে যায়, ফলে স্বাভাবিকভাবে বাতাস চলাচলে বাধা তৈরি হয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত কাশি, শোঁ শোঁ শব্দ, শ্বাসকষ্ট এবং বুকে চাপ বা ভারী অনুভূতির মতো সমস্যায় ভোগেন। কখনো এসব উপসর্গ একসঙ্গে দেখা দিলেও অনেক সময় আলাদাভাবেও প্রকাশ পায়।

ঝুঁকির দিক থেকে অ্যাজমা যে কারও হতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে বিশেষ করে মা-বাবা বা ভাই-বোনের অ্যাজমা থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি একজিমা বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের মতো অ্যালার্জিজনিত রোগ থাকলেও অ্যাজমার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যারা নিয়মিত বায়ুদূষণ, ধুলা বা ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকেন, তাদের মধ্যেও এই রোগ বেশি দেখা যায়।

শৈশবের বিভিন্ন বিষয় ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ায়। এর মধ্যে রয়েছে কম ওজন নিয়ে জন্ম, সময়ের আগে জন্ম, তামাকের ধোঁয়া ও অন্যান্য বায়ুদূষণের সংস্পর্শ এবং ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। একইভাবে পরিবেশে থাকা বিভিন্ন অ্যালার্জেন ও জ্বালাময় উপাদানও অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ঘরের ভেতর ও বাইরের দূষণ, ধূলিকণা, ছত্রাক এবং কর্মক্ষেত্রের রাসায়নিক পদার্থ, ধোঁয়া বা ধুলার সংস্পর্শও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও অ্যাজমার ঝুঁকি বেশি থাকে।

অ্যাজমা অ্যাটাক বলতে এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যখন শ্বাস নিতে তীব্র কষ্ট হয় এবং রোগের উপসর্গগুলো দ্রুত গুরুতর আকার ধারণ করে। এই সময় শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যায়, রিলিভার ইনহেলার আগের মতো কাজ না করতে পারে বা বারবার প্রয়োজন হতে পারে, কথা বলতে বা পুরো বাক্য উচ্চারণ করতে সমস্যা হয়, এমনকি হাঁটা বা স্বাভাবিক কাজকর্ম করাও কঠিন হয়ে পড়ে। পিক ফ্লো রিডিং স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলেও এটি অ্যাজমা অ্যাটাকের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।

অ্যাজমার ক্ষেত্রে স্থায়ী কোনো নিরাময় নেই। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখা, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ভালো রাখা এবং অ্যাজমার আক্রমণ প্রতিরোধ করা। সঠিক চিকিৎসা, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগীই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রিগার বা উদ্দীপক কারণগুলো যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা জরুরি। কোন পরিস্থিতিতে উপসর্গ বাড়ছে তা পর্যবেক্ষণ করে ট্রিগার শনাক্ত করতে হবে। প্রয়োজনে অ্যালার্জি টেস্ট করানো যেতে পারে এবং যেসব উপাদানে অ্যালার্জি রয়েছে সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে। ধোঁয়া, ধুলা ও দূষণ এড়িয়ে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতন থাকতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউমোনিয়া ও ফ্লুর টিকা গ্রহণ করা উচিত এবং অ্যাজমার ওষুধ নিয়মিত সেবন করতে হবে। উপসর্গ না থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করা ঠিক নয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত