ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩

গরমে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি

২০২৬ মে ১২ ১৫:২৪:২৫

গরমে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জরুরি

ডুয়া ডেস্ক: বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের প্রচণ্ড তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এ সময় শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করা এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই এ মৌসুমে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য জীবনযাপনে বিশেষ সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গরমে ঘামের কারণে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। এ কারণে ডায়াবেটিক রোগীদের দিনে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সফট ড্রিংক ও অতিরিক্ত মিষ্টিযুক্ত পানীয় পরিহার করা উচিত।

খাদ্যাভ্যাসে রাখতে হবে সতর্কতা। এ সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা ভালো। ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে লাল চাল, আটা, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। একসঙ্গে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাবার গ্রহণ করলে রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সুবিধা হয়।

গরমে শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কখনো কমে আবার কখনো বেড়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত গ্লুকোমিটার দিয়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ বা ইনসুলিনের মাত্রা সমন্বয় করতে হবে।

শারীরিক ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করলে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সকালে বা সন্ধ্যায় হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং রোদে দীর্ঘ সময় অবস্থান এড়িয়ে চলতে বলা হয়।

গরমে অতিরিক্ত ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে ত্বকে সংক্রমণ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। এ জন্য প্রতিদিন গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরিধান করা এবং পায়ের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে পায়ে কোনো ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।

দীর্ঘ সময় রোদে থাকা এড়িয়ে চলা, অ্যালকোহল ও ধূমপান থেকে বিরত থাকা এবং হঠাৎ দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ঘাম দেখা দিলে দ্রুত বিশ্রাম নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করা যাবে না।

সবশেষে বলা যায়, গরমকালে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য সচেতন জীবনযাপনই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মাধ্যমে এ মৌসুমে জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। নিজের প্রতি যত্নবান থাকাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত