ঢাকা, বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩

মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের

২০২৬ মে ০৬ ২১:৩২:৩৯

মাদ্রাসায় যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এমজেএফের

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। সংগঠনটি সব মাদ্রাসায় অবিলম্বে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছে।

এ দাবি বাস্তবায়ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছে সংগঠনটি।

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে তার গর্ভধারণের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এমজেএফ। তারা বলছে, এ ধরনের ঘটনা আবারও মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন সমন্বয়ক ওয়াসিউর রহমান তন্ময় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, মাদ্রাসাও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তাই উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাইরে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১ হাজার ২৮ জন নারী ও মেয়ে শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মেয়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ৪৭৯টি সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।

নেত্রকোনার ঘটনায় মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক গত অক্টোবর থেকে একাধিকবার ওই ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ অস্বীকার করলেও র‍্যাব তাকে আটক করে।

অন্যদিকে পটুয়াখালীতে পৃথক আরেক ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। উচ্চ আদালত ২০২৩ সালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও অনেক মাদ্রাসা এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি।

শাহীন আনাম বলেন, সব মাদ্রাসাকে এই নির্দেশনার আওতায় এনে দ্রুত যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা জরুরি। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এমজেএফ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অনেক ঘটনা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে গোপন থাকে। তাই কঠোর আইন প্রয়োগ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের মাধ্যমে এসব অপরাধ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব হলেও বাস্তবে তা যথাযথভাবে নিশ্চিত হচ্ছে না বলে মনে করে এমজেএফ। এ অবস্থায় প্রক্রিয়াধীন ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন’ দ্রুত প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

দেশে কমলো সোনার দাম, ভরি কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দামের পতন ঘটেছে। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে কয়েক হাজার টাকা কমে ক্রেতাদের জন্য কিছুটা... বিস্তারিত