ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার

২০২৬ আগস্ট ০৪ ২০:৪০:১২

এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার

পার্থ হক: অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্টফোন আইফোন ১৮ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন হয়নি। তবে বাজারে আসতে প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ফোনটি নিয়ে একের পর এক তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে। ফাঁস হওয়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সিরিজে থাকছে বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর, ১২ জিবি র‍্যাম, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সুবিধা, পরিবর্তনশীল অ্যাপারচারযুক্ত ক্যামেরা, ছোট আকারের ডায়নামিক আইল্যান্ড এবং আইফোনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি। পাশাপাশি এর দামও হতে পারে অ্যাপলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ফোনঅ্যারেনা জানিয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রারম্ভিক মূল্য চীনের বাজারে প্রায় ১১ হাজার ইউয়ান হতে পারে। ডলারে এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬২৫ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় কর ও শুল্ক ছাড়া যার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার টাকার বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির অত্যাধুনিক চিপ উৎপাদনের ব্যয় এবং ১২ জিবি উচ্চগতির র‍্যামের ব্যবহার। একই সঙ্গে অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম লাইনআপে পরিবর্তন আনছে। প্লাস মডেলের পরিবর্তে অত্যন্ত পাতলা নকশার আইফোন এয়ার যুক্ত হচ্ছে এবং প্রো ম্যাক্স মডেলকে আরও শক্তিশালী কর্মক্ষমতার ডিভাইস হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তথ্য ফাঁসের পেছনে সাইবার হামলা

অ্যাপল নতুন পণ্যের তথ্য গোপন রাখার ক্ষেত্রে বরাবরই কঠোর। তবে এবার ভারতের টাটা ইলেকট্রনিকস-এর সার্ভারে সাইবার হামলার পর সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ‘ওয়ার্ল্ড লিকস’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপ টাটা ইলেকট্রনিকসের হোসুর কারখানার সার্ভার থেকে প্রায় ৬৩০ গিগাবাইট সংবেদনশীল তথ্য চুরি করেছে। পরে এসব তথ্য ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করা হয়। ফাঁস হওয়া নথির মধ্যে আইফোন ১৮ প্রোর থ্রিডি নকশা, যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের তথ্য এবং ড্রপ টেস্টের ছবিও রয়েছে।

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং অ্যাপল এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রসেসর

প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমারস জানিয়েছে, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ব্যবহৃত হবে নতুন এ২০ প্রো চিপসেট। এটি তৈরি করছে তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি এবং এটি বিশ্বের প্রথম ২ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্টফোন প্রসেসর হতে যাচ্ছে।

নতুন এই চিপে অ্যাপল প্রথমবারের মতো গেট-অল-অ্যারাউন্ড (জিএএ) ন্যানোশিট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এর ফলে ট্রানজিস্টরের ঘনত্ব বাড়বে, বিদ্যুৎ খরচ কমবে এবং কর্মক্ষমতা আরও উন্নত হবে। দাবি করা হচ্ছে, এটি বর্তমান প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি গতি এবং ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।

১২ জিবি র‍্যাম ও শক্তিশালী এআই

অ্যাপল সাধারণত কম র‍্যাম ব্যবহার করলেও আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সে প্রথমবারের মতো ১২ জিবি র‍্যাম যুক্ত হচ্ছে।

ম্যাকরিউমারসের তথ্যমতে, নতুন আইওএস ২৭-এ থাকছে উন্নত অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স এবং নতুন প্রজন্মের সিরি এআই। এসব সুবিধা ইন্টারনেট ছাড়াই সরাসরি ফোনের ভেতর চলবে। অন-ডিভাইস এআই পরিচালনার জন্যই অতিরিক্ত র‍্যাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

এর ফলে ফোনটি দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ, স্ক্রিনে থাকা বিষয় শনাক্ত এবং তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহায়তা দিতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্যামেরায় বড় পরিবর্তন

অ্যাপল বিশ্লেষক মিং-চি কুও এবং ম্যাকরিউমারসের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্সের ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান ক্যামেরায় যুক্ত হচ্ছে ভ্যারিয়েবল অ্যাপারচার প্রযুক্তি।

এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আলোর তীব্রতা অনুযায়ী লেন্সের মুখ ছোট বা বড় করা যাবে। এতে ভিডিও ধারণের সময় আরও প্রাকৃতিক আলোক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর না করেই স্বাভাবিক ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার বা বোকেহ ইফেক্ট পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া প্রধান ক্যামেরার পাশাপাশি আলট্রা-ওয়াইড ও ৫ গুণ অপটিক্যাল জুমের টেলিফটো লেন্সও ৪৮ মেগাপিক্সেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছোট হবে ডায়নামিক আইল্যান্ড

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে ডিসপ্লের ওপরের ডায়নামিক আইল্যান্ড প্রায় ৩৫ শতাংশ ছোট করা হবে।

ফেস আইডির ইনফ্রারেড ও ফ্লাড ইলুমিনেটর সেন্সর ডিসপ্লের নিচে স্থানান্তরের ফলে কাটআউটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। পাশাপাশি ফোনের বডিতে ব্যবহার করা হবে আরও উন্নত গ্রেড-৫ পলিশড টাইটানিয়াম, যা আগের তুলনায় হালকা ও বেশি স্ক্র্যাচ-প্রতিরোধী হবে। নতুন রঙ হিসেবে যুক্ত হতে পারে স্যাটিন গোল্ড ও ডিপ প্লাম।

সবচেয়ে বড় ব্যাটারি

ফোনঅ্যারেনার তথ্য অনুযায়ী, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে থাকছে ৫ হাজার ৫৬৭ মিলিঅ্যাম্পিয়ার আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি, যা আইফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়।

এতে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারির আদলে স্ট্যাকড ব্যাটারি সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ফোনটি ৪০ ওয়াট পর্যন্ত তারযুক্ত চার্জিং এবং ২০ ওয়াট ম্যাগসেফ ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করতে পারে।

কবে আসবে বাজারে

ফোর্বসের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি লেখক ডেভিড ফেলানের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপল আইফোন ১৮ সিরিজ উন্মোচন করতে পারে।

এরপর ১১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে বিক্রি শুরু হতে পারে ১৮ সেপ্টেম্বর।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফোর্বস, আল-জাজিরা, ম্যাকরিউমারস, ফোনঅ্যারেনা ও ম্যাশেবল।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত