×

ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৫:৫৮:৩৯

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন সামনে রেখে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন সংশোধন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সরকার এ-সংক্রান্ত সংশোধনী বিল উত্থাপন করেনি।

ইসি মনে করছে, প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদের আর অধিবেশন বসার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে শিগগিরই আইনটি সংশোধন করে সংসদে পাস হওয়ার সম্ভাবনাও কম। আবার সংসদ কার্যকর থাকা এবং শক্তিশালী বিরোধী দল মাঠে থাকায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সরকার সংশোধনীটি পাস করবে কি না, তা নিয়েও কমিশনের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপের ভোটের আগে ইসির প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস না হলে সরকারকে চিঠি দেওয়ার কথা ভাবছে কমিশন। ওই চিঠিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বাকি ধাপগুলোর ভোট শেষ হওয়ার আগে সংশোধনী পাস না করার অনুরোধ জানানো হতে পারে। এ বিষয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনাও হয়েছে।

ইসির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘আইনের সংশোধনী পাশ না হলে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সার্বক্ষণিক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার আইনগত সুযোগ নেই। কারণ হিসাবে তারা বলেন, স্থানীয় সরকার আইনগুলোতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মকর্তা/কর্মচারীর পদকে লাভজনক পদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার অনুচ্ছেদ ১১.১৭(ক) ও (খ) এর মতে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক পদে বা চাকরিতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। লাভজনক পদ বলতে যেসব পদকে বোঝানো হয়েছে সেসব পদে স্থানীয় সরকারের কোনো পদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

এ ছাড়া রিট পিটিশন নং ৬৩৬৬/২০০৯-এর মামলায় হাইকোর্ট বিভাগ পৌরসভার মেয়র পদকে লাভজনক পদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেনি। নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের অন্য পদগুলোকে লাভজনক পদ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে পারে না এমন পর্যবেক্ষণও দিয়েছে আদালত।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমরা সব নির্বাচনের জন্য একই আইন চাই। এক নির্বাচনে এক ধরনের আইন, আরেক নির্বাচনে অন্য ধরনের আইন প্রণয়ন করা হলে বৈষম্য তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নের সৃষ্টি হবে।’

নির্বাচন কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য যাচাই করে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রস্তুত করেছে ইসি সচিবালয়। দেশের চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে চার হাজার দুইশর বেশি ইউপিকে নির্বাচন উপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরে ভোট আয়োজনের উপযোগী ইউপির সংখ্যা তিন হাজার নয়শর বেশি।

প্রায় পাঁচশ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। এবার একটি উপজেলার নির্বাচন উপযোগী সব ইউনিয়ন পরিষদে একই দিনে ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা করছে কমিশন। প্রথম ধাপে পাঁচ থেকে সাতশ এবং দ্বিতীয় ধাপে নয়শ থেকে এক হাজার ইউপিতে ভোট নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। শেষের দিকের ধাপগুলোতে তুলনামূলক কমসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদ রাখা হচ্ছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত