ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাবিতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনা নিয়ে সেমিনার
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘হযরত খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা (র.)-এর শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রবিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুমিত আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি এইচএম মাহফুজুল হক, ইউনাইটেড গ্রুপের উপদেষ্টা আলহাজ্জ আতাউর মাহমুদ রানা এবং ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. একরাম হোসেন সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে বাঙালি মুসলমানের জাগরণের পর্বে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা একজন রেনেসাঁপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। ব্রিটিশ-ভারতে তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় আইসিএস অফিসার, শিক্ষা বিভাগের একমাত্র ভারতীয় সহকারী পরিচালক এবং বাংলা একাডেমির প্রথম ফেলো। বাঙালি জাতি-মানস গঠনের অন্যতম সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁর কাছে অশেষ ঋণে আবদ্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অনবদ্য অবদানকে আমরা গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।
উপাচার্য বলেন, বঙ্গীয় মুসলিম রেনেসাঁ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার অবদান স্মরণ করতে গেলে ভারতীয় মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রপথিক স্যার সৈয়দ আহমদের কথাও প্রাসঙ্গিকভাবে স্মরণ করতে হয়। বৃহৎ বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আধুনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের জন্য শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার ভূমিকার সঙ্গে স্যার সৈয়দ আহমদ খানের ভূমিকার তুলনা করা যায়। তাঁরা উভয়েই ব্রিটিশ ভারতের অবহেলিত মুসলিম সমাজকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। দুই মনীষীই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং আধুনিক ইংরেজি শিক্ষার অভাবই ভারতবর্ষের মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ কারণে তাঁরা সমাজকে ইংরেজি ও আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতে ঐতিহাসিক মোহামেডান অ্যাংলো-ওরিয়েন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ নেয়। অন্যদিকে, পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা খসড়া বিলের স্পেশাল কমিটির সদস্য হিসেবে বিরোধীদের যুক্তি খণ্ডন করে অত্যন্ত সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মুসলিম সমাজের কুসংস্কার দূর করতে স্যার সৈয়দ আহমদ খান যেমন ‘তাহযীব-আল-আখলাক’ নামক পত্রিকা প্রকাশ করেছিলেন, তেমনি খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাও সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে শতাধিক গ্রন্থ রচনা করেন এবং ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা ও সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার সৈয়দ আহমদ খানকে ‘স্যার’ এবং আহ্ছানউল্লাকে ‘খানবাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। এসব দিক বিবেচনায় খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লাকে ‘বাংলার স্যার সৈয়দ’ হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।
উপাচার্য আরও বলেন, খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মচেতনার সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ জাতীয় পর্যায়ে এই সেমিনারের আয়োজন করেছে। তিনি এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে সেমিনার আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার আদর্শ ও দর্শন নিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও চর্চার যে ধারা এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে অব্যাহত থাকবে, তা ভবিষ্যতেও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার শিক্ষা ও অধ্যাত্মদর্শনের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর জীবন ও দর্শন আমাদের চলার পথে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি সেমিনার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করেন।
সেমিনারে নর্থ আমেরিকান মুসলিম এলায়েন্সের প্রেসিডেন্ট এবং স্ট্যামফোর্ড, আমেরিকার রাহমাতুল্লিল আলামীন জামে মসজিদের খতিব শাইখ মুহাম্মদ সাইফুল আজম আজহারী মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল হাদী এবং খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এমএফএম এনামুল হক আলোচনায় অংশ নেন। নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার রচিত ‘খানবাহাদুর আহ্ছানউল্লার চিন্তন ও রচনায় ফারসি ভাব-দর্শনের প্রভাব’ শীর্ষক বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ১১-২০ গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষায় নতুন মানবণ্টন
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ‘সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিলটি কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’
- ফেল বিরোধীদলের ওয়াকআউট
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- মেঘনা গ্রুপে বিভিন্ন পদে চাকরির সুযোগ
- সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৭ সেপ্টেম্বর)
- নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা, কোন গ্রেডে কত?
- বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের ৬১৮ প্রভাষকের চাকরি স্থায়ীকরণ