×

ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৬ ২১:৫৫:৪৫

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা ডিজিটাল ঋণ চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল ডিভাইসের দ্রুত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সুদমুক্ত ও জামানতবিহীন আপৎকালীন ডিজিটাল ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ বা জরুরি ডিজিটাল ঋণ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ডিজিটাল ব্যাংকিং ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসারে চালু করা এ সুবিধার আওতায় সুদ ছাড়াই শুধু নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।

আজ রোববার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এ ঋণ সুবিধার অর্থ নগদ টাকায় রূপান্তর, ওয়ালেটে ‘অ্যাড মানি’ কিংবা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা যাবে না। কেবল ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ফি, টোল, বিমা প্রিমিয়াম, ডিপিএসের কিস্তিসহ অনুমোদিত নির্দিষ্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি পরিশোধের ক্ষেত্রে এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

নতুন এ ব্যবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এটি একেবারেই নতুন একটি ধারণা। বাংলাদেশে এই প্রথম চালু হলো। এটি মূলত একটি আপৎকালীন ফান্ড। যদি মানুষ এটিকে সাদরে গ্রহণ করে এবং সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়, তবে ভবিষ্যতে এর আওতা ও পরিধি আরও বাড়ানো হবে। এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে একজন গ্রাহক জরুরি প্রয়োজনে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ বা সরকারি ফি পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল ঋণ সুবিধা পাবেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবাটি বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ন্যূনতম ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করতে হবে। পাইলট প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়ন, গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া ও অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইনস (পিপিজি) অনুমোদন করবে। বাণিজ্যিকভাবে চালুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও পিপিজি ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগে জমা দিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নেওয়া ঋণের মূল অর্থ এবং নির্ধারিত মাশুল বা ফি ঋণের তারিখ থেকে হিসাব করে যথাক্রমে ৮ম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিংবা তার আগেই ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত কোনো ফি, সুদ বা চার্জ কাটা যাবে না। তবে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত মেয়াদের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা আদায় করা যাবে, যা ৩০ দিন মেয়াদি ঋণের দৈনিক ফি’র বেশি হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল যথাক্রমে ৩, ৪ ও ৬ টাকা। ২৫১ থেকে ৫০০ টাকার ঋণের জন্য এ মাশুল ৫, ৮ ও ১৫ টাকা। ৫০১ থেকে এক হাজার টাকার ক্ষেত্রে ৭, ১২ ও ২০ টাকা; ১ হাজার ১ থেকে দুই হাজার টাকার ক্ষেত্রে ১০, ২০ ও ৩০ টাকা; ২ হাজার ১ থেকে তিন হাজার টাকার ক্ষেত্রে ১৫, ৩০ ও ৫০ টাকা; ৩ হাজার ১ থেকে পাঁচ হাজার টাকার ক্ষেত্রে ২০, ৪০ ও ৭০ টাকা; ৫ হাজার ১ থেকে সাত হাজার টাকার ক্ষেত্রে ২৫, ৫০ ও ৯০ টাকা এবং ৭ হাজার ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩৫, ৭০ ও ১৩০ টাকা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত