ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি-ডিম খেয়ে ১১ শিক্ষার্থী অসুস্থ
নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নয়াগোলা পুলিশ লাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় দেওয়া ডিম ও বনরুটি খেয়ে পেটের ব্যথায় ১১ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহবুব হোসেন।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একে একে শিক্ষার্থীরা পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করতে শুরু করে। পরে অসুস্থতা বাড়লে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান।
খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়া ১১ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৯ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—চতুর্থ শ্রেণির মাহমুদা (১২), বিউটি (১২), শারমিন (১০), সুমাইয়া (১০), সাইন (১২) ও মাহফুজ (১০); তৃতীয় শ্রেণির মোসা. তায়েবা খাতুন (১১) ও শারিহা আক্তার শান্তি (১০) এবং পঞ্চম শ্রেণির জয়নব জারিফ (১২)। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক নয়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্যান্য দিনের মতো রোববারও স্কুল ফিডিং প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের ডিম ও বনরুটি দেওয়া হয়। খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই একে একে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে থাকে। বেশি অসুস্থ বোধ করায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। মোট ১১ শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহবুব হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থা গুরুতর নয়। তাঁদের কারও পেটব্যথা, কারও শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এদিকে বেসরকারি সংস্থা ‘গাক’-এর মাধ্যমে স্থানীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘নিশান কনফেকশনারী’তে তৈরি এসব বনরুটি বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছিল। রোববার শিক্ষার্থীদের যে বনরুটি দেওয়া হয়, সেগুলোর মেয়াদ গত ৩ ও ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ বাসি ও নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের কারণেই শিশুরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পেটের ব্যথায় ভুগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বেসরকারি সংস্থা ‘গাক’-এর সিনিয়র পরিচালক মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি দেখভালের জন্য ঘটনাস্থলে তাঁদের প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত খোঁজ নেওয়ার পর জানানো হবে। একটি বিদ্যালয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ বনরুটি যাওয়ার কথা নয়। এরপরও তাঁরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
পাউরুটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘নিশান কনফেকশনারী’র স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, তাঁদের পাউরুটি খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে কি না, নাকি ডিম থেকে সমস্যা হয়েছে, তা প্রতিষ্ঠান প্রধান বলতে পারবেন। তাঁরা পাউরুটি তৈরি করে ‘গাক’-কে দিয়ে দেন; বিতরণের দায়িত্ব তাঁদের নয়। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল