ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সৌদিতে সুইটির মৃ/ত্যুদণ্ড, এখনো জানে না পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য যাচাই করে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে গণমাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারেনি তাঁর পরিবার। মেয়ের মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন তাঁর বাবা-মা।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে যাওয়ার বহির্গমন ছাড়পত্র পান তিনি। দেশটিতে তাঁর নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।
গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাঁরা হলেন সিতি আখতার ও নাজেরুল ইসলাম আবদুল বশির। বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ওই নারীর নাম সুইটি আক্তার এবং পুরুষের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায়নি বলে জানিয়েছে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট। এ ঘটনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের কাছে এ ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে বিচারপ্রক্রিয়া ও আদালতের রায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এখনো তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। সুইটির বোনের স্বামী আবদুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁকে ডেকে এনে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটি আক্তারের ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।
সুইটি আক্তারের বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানান, মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি। তাঁদের দাবি, মেয়ে মারা গিয়ে থাকলে সরকার যেন দ্রুত তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এ জন্য তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- বাংলাদেশকে ৩০৫ রানের লক্ষ্য দিল আফগানিস্তান, জবাবে ১৬৯ রান
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- খুলনায় ৩০ কেজি ধানে তৈরি দুর্গাপ্রতিমা দেখতে ভিড়
- শনিবার ঢাকায় বন্ধ যেসব মার্কেট ও দোকানপাট
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৩ অক্টোবর)
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন