×

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

সাড়ে ৯ মাসে ১ হাজার ২৭৫ জনের পুশইন ঠেকানো হয়েছে: বিজিবি

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১২:৪০:৩৮

সাড়ে ৯ মাসে ১ হাজার ২৭৫ জনের পুশইন ঠেকানো হয়েছে: বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ২৩টি সীমান্তবর্তী জেলায় চলতি বছরের সাড়ে ৯ মাসে ১৮২টি পুশইনের ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত এসব অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক লোকজন প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, সংযম ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি। এ ধরনের চেষ্টা ঠেকাতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।

মাহবুব মুর্শেদ রহমান বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনার যেকোনো পর্যায়ে অবৈধ চাপ বা অপতৎপরতা মোকাবিলায় বিজিবি কোনো আপস করবে না। প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করেই বাহিনীটি দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম, দিনে ও রাতে পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমও চালু রয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান জোরদার

বিজিবির এই পরিচালক জানান, পুশইন প্রতিহত করার পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য চোরাচালানবিরোধী অভিযানও জোরদার করেছে বাহিনীটি। চলতি বছরের বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৮টি পিস্তল, সাতটি রাইফেল, একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), সাতটি গ্রেনেড, ১২টি মাইন এবং ৩ হাজার ২০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাদক, অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনসামগ্রী। এ ধরনের অভিযান দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং বৈধ বাণিজ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানায় বাহিনীটি।

মাদকদ্রব্য প্রতিরোধকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ পিসের বেশি ইয়াবা ট্যাবলেট, প্রায় ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ, প্রায় ১২ কেজি হেরোইন ও কোকেন, প্রায় ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, প্রায় ২৪ হাজার বোতল ফেনসিডিল এবং প্রায় ১ লাখ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, মাদকের প্রতিটি চালানের সঙ্গে তরুণদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের শান্তি ও নিরাপত্তা জড়িত। এ উপলব্ধি থেকেই মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত দায়িত্ব পালন করছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)

ডুয়া ডেস্ক: বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বশেষ ৩ হাজার ২৬৬... বিস্তারিত