ঢাকা, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
শিবির-ছাত্রদল উত্তেজনার পরও থমথমে ইবি ক্যাম্পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ইসলামী ছাত্রশিবিরের হল সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার দিনভর উত্তেজনার পর আজ রোববারও থমথমে রয়েছে ইবি ক্যাম্পাস। গতকালের মতো আজও নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সরেজমিনে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে পুলিশ সদস্যদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। ক্যাম্পাসের ভেতরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করলেও ফটকের বাইরে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অবস্থান এবং মোটরসাইকেল শোডাউন করতে দেখা গেছে। তবে গতকাল ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার পর এখনো কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এ ঘটনায় থাপ্পড়ের শিকার কাজী জুহায়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা শিবিরের সেক্রেটারি। অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আলীনূর রহমান আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আবাসিক হলে দুই নেতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর ধস্তাধস্তি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর আজও ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। অন্যান্য দিনের মতো যথারীতি ক্লাস-পরীক্ষা চললেও ক্যাম্পাসের আড্ডাস্থলগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। গতকাল দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনো চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, দূরদূরান্ত থেকে পড়াশোনা করতে আসা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা থাকে নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের। জুলাই আন্দোলনের পর ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝনঝনানি কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই বৃহৎ ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে। যেকোনো মূল্যে মারামারি-হানাহানিমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস চান তারা।
গতকাল দিনভর উত্তেজনার পর রাতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকালের মতো আজও নিরাপত্তার স্বার্থে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও পুলিশ লাইনের অতিরিক্ত সদস্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই পুলিশের এই অবস্থান বলে জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম মামুনুর রশীদ।
তিনি বলেন, ‘গতকালের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত কেউই থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা পুলিশ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যাম্পাসের সুরক্ষার জন্য আমাদের সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেছি। এ ছাড়া কারা ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে, তাদের শনাক্তে আমাদের কার্যক্রম চলমান আছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে সতর্ক অবস্থানে আছি।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- আগামী ১০ বছরে যেসব চাকরির চাহিদা বাড়বে, জেনে নিন
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- কক্সবাজারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ছাত্রের সঙ্গে শিক্ষিকার শারীরিক সম্পর্ক, ৭ বছরের জেল
- তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাত করতে চান ট্রাম্প