×

ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য চাইবে দুদক

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৫ ০৯:৪১:১৪

দুবাইয়ে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য চাইবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ পাচারের মাধ্যমে সম্পদ কেনার অভিযোগে ৭৩ বাংলাদেশির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ তালিকায় রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল এবং পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। তাদের সম্পদ ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করবে সংস্থাটি।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের আওতায় আমিরাতের কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে দুর্নীতি ও আর্থিক অপরাধের তদন্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে তথ্য ও নথি আদান-প্রদান করা যায়।

দুদকের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, তদন্তাধীন ব্যক্তিদের কেউ কেউ আমিরাতের দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা দুবাই মেরিনা ও পাম জুমেইরাহতে ফ্ল্যাট ও বাড়ি কিনেছেন এবং দেশটির গোল্ডেন ভিসাও পেয়েছেন।

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক আক্তারুল ইসলাম জানালেন, দুবাইয়ে অর্থ পাচারের মাধ্যমে সম্পদ কেনার অভিযোগের বিষয়ে তথ্য চেয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কাছে চিঠি দিয়েছে তদন্ত দল। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দুদক এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে ৭৩ ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর তাদের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে দুদকের উপপরিচালক আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি বিশেষ দল কাজ করছে। দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান।

দুবাইয়ে বাংলাদেশিদের সম্পদের বিষয়ে ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্দেশনার পর এ তদন্ত শুরু হয়। ওই নির্দেশনায় দুবাইয়ে ৪৫৯ বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পদ কেনার অভিযোগ তদন্তের জন্য দুদক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছিল।

সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্যাক্স অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত ৪৫৯ বাংলাদেশির দুবাইয়ে ৯৭২টি সম্পত্তি ছিল। এসব সম্পত্তির নথিভুক্ত মূল্য ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর আগে সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ডিফেন্স স্টাডিজের ২০২২ সালের এক গবেষণায় সম্পত্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলা হয়েছিল।

গবেষণার তথ্য বলছে, বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এসব সম্পত্তির একটি অংশ দুবাইয়ের অভিজাত এলাকাগুলোতে রয়েছে। এর মধ্যে ৬৪টি সম্পত্তি ছিল দুবাই মেরিনায় এবং ১৯টি পাম জুমেইরাহতে। এ ছাড়া বাংলাদেশিদের মালিকানায় অন্তত ১০০টি ভিলা ও পাঁচটি ভবনের তথ্য পাওয়া যায়। চার বা পাঁচজন বাংলাদেশির সঙ্গে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পত্তির সংশ্লিষ্টতার তথ্যও উঠে আসে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ সেপ্টেম্বর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন দফা কমার পর দেশের বাজারে আবারও বড় ব্যবধানে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে... বিস্তারিত