×

ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

এআই ব্যবহারের আগে যে ৫ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯:০২:৩৫

এআই ব্যবহারের আগে যে ৫ বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

ডুয়া ডেস্ক: ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন দৈনন্দিন জীবন ও কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এআইয়ের অবাধ ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ঝুঁকি। এ কারণে কোনো এআই টুল বা চ্যাটবট ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

১. গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করা

এআই প্ল্যাটফর্মে প্রম্পট বা কমান্ডের মাধ্যমে দেওয়া তথ্য অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে সংরক্ষিত হতে পারে। এমনকি এসব তথ্য মডেলের মান উন্নয়নের কাজেও ব্যবহার করা হতে পারে।

এ কারণে ব্যাংকের হিসাব নম্বর, পিন কোড, পাসওয়ার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরসহ অফিসের গোপনীয় ও সংবেদনশীল নথি কোনো এআই টুলে দেওয়া উচিত নয়। তথ্য সুরক্ষার জন্য যেকোনো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

২. এআইয়ের তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করা

অনেক সময় এআই টুল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল, ভুয়া কিংবা পুরোনো তথ্য দিতে পারে। প্রযুক্তির ভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে ‘হ্যালুসিনেশন’ বলা হয়।

বিশেষ করে চিকিৎসা, আইনি পরামর্শ বা আর্থিক লেনদেনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু এআইয়ের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এসব তথ্য নির্ভরযোগ্য ও পেশাদার উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

৩. প্ল্যাটফর্মের প্রাইভেসি ও ডাটা পলিসি জেনে নেওয়া

নতুন কোনো এআই টুল বা অ্যাপ ব্যবহারের আগে সেটির নিয়মাবলি ও প্রাইভেসি পলিসি পড়ে নেওয়া দরকার। কারণ অনেক অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং আচরণ, লোকেশন ও ব্যক্তিগত ডাটা সংগ্রহ করতে পারে। এসব তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরেরও সুযোগ থাকতে পারে।

নিরাপত্তার জন্য অ্যাকাউন্ট খোলার সময় টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা এবং প্রয়োজন নেই এমন ডাটা শেয়ারিংয়ের অপশন বন্ধ রাখা নিরাপদ।

৪. এআই-উত্পাদিত ডিপফেক ও ভুয়া কনটেন্টে সতর্ক থাকা

জেনারেটিভ এআইয়ের সাহায্যে এখন নিখুঁত ছবি ও ভিডিও তৈরি করার পাশাপাশি মানুষের কণ্ঠস্বরও হুবহু নকল বা ভয়েস ক্লোনিং করা সম্ভব। সাইবার অপরাধীরা এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানো, পরিবারের সদস্য সেজে আর্থিক জালিয়াতি এবং ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধ করছে।

তাই সন্দেহজনক কোনো তথ্য বা দৃশ্য সামনে এলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

৫. নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা ও কর্মদক্ষতা ধরে রাখা

কাজের সহায়ক হিসেবে এআই ব্যবহার করা কার্যকর হলেও এর ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়লে মানুষের নিজস্ব চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বাড়ির কাজ বা লেখালেখির পুরো দায়িত্ব এআইয়ের ওপর ছেড়ে দিলে নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাই এআইকে নিজের চিন্তা ও দক্ষতার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং সহায়ক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করা শ্রেয়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত