ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩
ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ৪৮ শিক্ষার্থী পেলেন ডিনস অ্যাওয়ার্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ ও বাংলাদেশ ইউনেস্কোর প্রতিনিধি-অফিস প্রধান ড. সুজান ভাইজও বক্তব্য দেন।
বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নাম ঘোষণা করেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সকল শিক্ষক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, প্রাধ্যক্ষ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে পবিত্র ধর্মগ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। অনুষ্ঠানের পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক আয়োজনও ছিল।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২১ সালের পুরস্কার পেয়েছেন ইশতিয়াক আহমেদ, মো. হাসান আল আজাদ, মো. হিমেল রহমান, ব্রতোতি সাহা, নাহিয়ান মাশিয়াত এনায়েত, ফারিতা বিনতে হান্নান, ইসনা হক শেওতি, রাবেয়া আক্তার সাথী, নওশিন জারিন প্রাপ্তি, লুদমিলা সারাহ খান, ফাহিন রহমান অঙ্কিতা, নিসর্গ নিঝুম, রাহনুমা বিনতে মালেক এবং শেখ রাশিদ বিন ইসলাম।
২০২২ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন সারারা জাফরিন, ফয়সাল কাইয়ুম, সুরাইয়া জেবিন পাপিয়া, খন্দকার তাহমিদ রেজওয়ান, লিংকন দাস, ফারাহ জাহান শুচি, মো. মহিউদ্দিন খান, মো. আসিফুর রহমান, মো. শাহাদাত, মেহেদি হাসান রিমন, সারাফ ওয়ামিয়া আহমেদ, ফারিহা আহমেদ, বিক্রমাদিত্য, লামিয়া আফজাল, ফাহমিদা মতিন মিম, অনিকা আফিয়া জাহান এবং মো. ইফরাত জাহান ভূঁইয়া শাফিন।
২০২৩ সালের ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তরা হলেন লুবাবা বিনত হালিম, মো. মাজহার উদ্দিন ভূঁইয়া, ফারিয়া ইসলাম, রেশমি, আজরা হুমায়রা, মোসাম্মৎ সন্ধ্যা, নূর নিশাত আঞ্জুম, প্রাপ্তি রায়, তানজিমা সাবরিন, জেরিন রাফিজা, এ. আর. তাহসিন জাহান, মহসিনা বিনতে হারুন, এস. এস. সালাহ উদ্দিন আকাশ, নুসাইবা বিনতে মোরশেদ, আফরিন জাহান এনা মনি, শারমিন জাহান মিম এবং মো. রবিউল ইসলাম হৃদয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কেবল প্রচলিত জ্ঞান অনুসরণ করলে চলবে না। তাঁদের প্রশ্ন করতে হবে, যুক্তির মাধ্যমে বিচার করতে হবে এবং নতুন জ্ঞান তৈরি করতে হবে। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দায়িত্ব নাগরিকত্ববোধ, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা গড়ে তোলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ না রেখে জ্ঞান সৃষ্টিকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গবেষণার মাধ্যমে নতুন চিন্তা ও তত্ত্ব তৈরি করতে হবে এবং বিশ্বজ্ঞান ভাণ্ডারে বাংলাদেশের অবদান বাড়াতে হবে। পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গণিত শিক্ষার বিস্তার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে হবে।
অধ্যাপক ড. তিতুমীর আরও বলেন, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলায় সমালোচনামূলক চিন্তা এবং গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চার কোনো বিকল্প নেই। উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার পাশাপাশি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।
ডিনস অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, এ পুরস্কার তাঁদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বীকৃতি। তবে পুরস্কার পাওয়ার সঙ্গে তাঁদের দায়িত্বও বেড়েছে। সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে তাঁদের আরও বেশি গবেষণা, অধ্যয়ন ও পরিশ্রম করতে হবে। সীমিত সুযোগ ও অর্থায়নের মধ্যেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে যাচ্ছেন। গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং গবেষকদের উৎসাহিত করতে ভবিষ্যতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়া, কারিকুলাম নিয়মিত পর্যালোচনা ও যুগোপযোগী করা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ রয়েছে। তাঁর মতে, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও মানবিক গুণাবলির বিকাশও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখবে এবং উচ্চশিক্ষা শেষে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানের পর বিকেলে সামাজিক বিজ্ঞান ভবনে অবস্থিত অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উন্মুক্ত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- নব্বইয়ের দশকের রেট্রো ছবি বানাবেন যেভাবে, জেনে নিন ১০ AI প্রম্পট
- পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
- ব্যালন ডি’অর ২০২৬-এর ৩০ ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ
- ১১-২০ গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ছে
- বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাইভার তারিখ প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- নারী এশিয়া কাপ সেমিফাইনাল: কবে, কখন কোন দলের ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (৮ সেপ্টেম্বর)
- বুটেক্সে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে মাহমুদা মিতু
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- ফের ব্যালন ডি’অরের তালিকায় মেসি