ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে

২০২৬ মে ১৮ ১৯:০৯:২৫

সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শিক্ষামন্ত্রীর এপিএস ফারুককে

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানকে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বদলি–তদবির বাণিজ্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অভিযোগের পরও তাকে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষা প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

গত ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব গোলাম মোরশেদ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ওমর ফারুক দেওয়ানকে এপিএস পদ থেকে সরিয়ে দুলাল মিঞাকে নতুন এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) পরিচালক (প্রশাসন) পদে পদায়ন করা হয়। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ানের মূল পদ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লেখেন এবং ফেসবুকে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রশংসামূলক পোস্ট দেন বলে জানা যায়।

এদিকে চলতি বছরের মার্চে বরিশাল জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক পদ থেকে তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর এপিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি ওমর ফারুক দেওয়ানকে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিলেন।

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আস্থার জায়গা থেকে এবারও তাকে এপিএস হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বলে জানা যায়। তবে দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় তাকে এ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে বদলি ও তদবির বাণিজ্য, চাঁদা আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত আসে।

তবে মন্ত্রণালয় থেকে সরানো হলেও একই সঙ্গে তাকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদে পদায়ন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ওই পদটি তৃতীয় গ্রেডের (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদা), অথচ তিনি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। ফলে এই পদায়ন নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কি না তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সোমবার (১৮ মে) বিকেলে মোহাম্মদ ওমর ফারুক দেওয়ান ফোন রিসিভ করেননি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত