ঢাকা, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে সরকার

২০২৬ মে ১৮ ২২:৩০:৫৪

দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মহাকাশ প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, দেশের প্রথম স্যাটেলাইট শুধু সফলভাবেই পরিচালিত হচ্ছে না, এটি ইতোমধ্যে লাভজনক প্রকল্পেও পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার এখন দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যা নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত ‘স্যাটেলাইট ড্রোনস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিচালনায় বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সেই স্যাটেলাইট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মুনাফা এসেছে। সরকার এখন দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা লো আর্থ অরবিটে স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে আরও স্পষ্ট ছবি ও দ্রুত তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে শুধু বিলাসী প্রযুক্তি হিসেবে দেখছে না; বরং এটিকে জাতীয় উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। যোগাযোগ, সম্প্রচার, রিমোট সেন্সিং ও তথ্য সংগ্রহে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলোকে ঘূর্ণিঝড় বা বৈরী আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা পাঠাতে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে প্রতিবছর সমুদ্রে প্রাণহানির ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এবং কৃষিজমির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি কোন এলাকায় কী ধরনের ফসল ভালো হচ্ছে বা কোথায় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সেসব তথ্যও দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে।

ড্রোন প্রযুক্তি নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বর্তমানে ড্রোন শুধু ছবি তোলার কাজে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সীমান্ত নজরদারি, উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৃষি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখছে। ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, সরকার প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চ কক্ষপথের পরিবর্তে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে এবং তথ্য সংগ্রহের গতি বাড়বে।

সেমিনারে প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী মহাকাশ প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্পেস ডেটা, গ্রাউন্ড স্টেশন ডিজাইন, স্যাটেলাইট অ্যাপ্লিকেশন ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থী স্যাটেলাইট প্রকল্প, সার্টিফিকেশন কর্মসূচি এবং স্পেসটেক স্টার্ট-আপ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত