ঢাকা, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

ডাক্তার ছাড়াই প্রাথমিক হার্ট ঝুঁকি বোঝার সহজ উপায়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১০:৫৮:০২

ডাক্তার ছাড়াই প্রাথমিক হার্ট ঝুঁকি বোঝার সহজ উপায়

ডুয়া ডেস্ক: হঠাৎ হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর খবর এখন আর বিরল নয়। অনেক ক্ষেত্রেই আগেভাগে বড় কোনো উপসর্গ না থাকায় মানুষ বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় বিপদ। তবে চিকিৎসকদের মতে, হৃদ্‌যন্ত্রের অবস্থা জানতে সব সময় জটিল পরীক্ষা বা হাসপাতালে ছুটতে হয় না। শরীরের কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনই দিতে পারে আগাম সতর্কতা আর সেই ইঙ্গিত মিলতে পারে পা দেখেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরে বসে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি সহজ পরীক্ষায় হার্টের ঝুঁকি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব। কারণ হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত রক্তসঞ্চালনের ওপর পড়ে, আর তার লক্ষণ অনেক সময় আগে দেখা দেয় পায়ে।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, ঘুমের মধ্যেও কি হার্ট অ্যাটাক হতে পারে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ‘সাইলেন্ট হার্ট অ্যাটাক’ বলা হয়, তা তীব্র ব্যথা বা স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ঘটতে পারে। ঘুমের সময় হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবেই কম থাকে। কিন্তু যদি রক্ত চলাচলে বাধা থাকে বা হৃদ্‌যন্ত্র দুর্বল হয়, তবে নীরবেই বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এখন এই ঝুঁকি শুধু বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তরুণদের মাঝেও বাড়ছে।

এই ধরনের ঝুঁকির আগে শরীর কিছু সতর্ক সংকেত দেয়। চিকিৎসকদের মতে, পা ফুলে যাওয়া, অবশভাব, বা চাপ দিলে দাগ থেকে যাওয়া ইঙ্গিত হতে পারে শরীরে তরল জমার। এটি শুধু হার্ট নয়, কিডনি বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।

হার্টে ব্লকেজের বিষয়টিও অনেক সময় পায়ের মাধ্যমেই ধরা পড়ে। জন্মের পর থেকেই ধীরে ধীরে ধমনিতে কোলেস্টেরল জমা হতে শুরু করে। বয়স, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর নির্ভর করে এই জমা বাড়ে বা কমে। ধমনী সরু হয়ে গেলে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়, তৈরি হয় ব্লকেজের আশঙ্কা। এর প্রভাব সারা শরীরে পড়ে, বিশেষ করে পায়ে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে হার্ট সমস্যার ধরনও আলাদা জন্মগত হলে কনজেনিটাল ব্লক, ধমনিতে রক্ত জমাট বাঁধলে করোনারি থ্রম্বোসিস, আর স্পন্দনের ছন্দপতনে অ্যারিদমিয়া। এসব অবস্থায় রক্ত সঠিকভাবে প্রবাহিত না হলে পা ফুলে যাওয়া, গোড়ালি বা কাফে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

এই ঝুঁকি বোঝার একটি সহজ উপায়কে গবেষকেরা নাম দিয়েছেন ‘লেগ এলিভেশন টেস্ট’। আরাম করে বসে বা শুয়ে একটি পা প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে পাঁচ সেকেন্ডের জন্য তুলে ধরতে হবে। যদি পা তোলার সঙ্গে সঙ্গে পায়ের পাতায় কাঁপুনি, আঙুল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা রঙ বদলে যেতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে রক্ত চলাচলে সমস্যা রয়েছে।

পা নামানোর পর লক্ষ্য করুন অল্প সময়ের মধ্যে যদি পা ফুলে যায়, গোড়ালি বা পেশিতে ব্যথা অনুভূত হয়, তবে এটি ধমনিতে ব্লকেজের ইঙ্গিত হতে পারে। গবেষণা অনুযায়ী, হার্টের ধমনীতে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল জমলে তার প্রভাব পায়ের রক্তনালিতেও পড়ে।

বিশেষ করে বারবার পায়ে ব্যথা, পেশিতে টান, শোয়ার সময় পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া বা অবশ ভাব দেখা দিলে সতর্ক হতে বলেন বিশেষজ্ঞরা। এগুলো ‘পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ’ বা পিএডি-এর লক্ষণ হতে পারে, যেখানে পায়ের রক্তনালিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়। ত্বকের রং বদলে যাওয়া বা নীলচে-বেগুনি শিরা স্পষ্ট হয়ে ওঠাও ঝুঁকির ইঙ্গিত। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত