ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:৩৬:০৩

শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল

ডুয়া ডেস্ক: নিসফা মিন শাবান বা শাবান মাসের পনেরোতম রাতকে মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেয়। এই রাতটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আল্লাহ তাআলা মহিমান্বিত এই রাতে অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। হাদিসে বর্ণিত আছে-

إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا يَوْمَهَا ‏.‏ فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ أَلاَ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ أَلاَ مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلاَ مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلاَ كَذَا أَلاَ كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ

অর্থাৎ “মধ্য শাবানের রাতে নামাজ আদায় করো এবং দিনে রোজা রাখো। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে এসে বলেন, কে আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী আমি তাকে ক্ষমা করবো, কে রিজিকপ্রার্থী আমি তাকে রিজিক দান করবো, কে রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী আমি তাকে নিরাময় দান করবো, এভাবে ফজরের আগ পর্যন্ত ডাকেন।” (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮)

রাসুল (সা.) বলেন

يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.

অর্থাৎ, মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকুলের দিকে দয়ার দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)

শবে বরাতে করণীয় আমল

তওবা ও আত্মসমালোচনা: শবে বরাতে প্রথম কাজ হলো নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা করা। সারা বছরের ভুল, অবহেলা বা অজ্ঞাত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করা গুরুত্বপূর্ণ।

নফল নামাজ: এই রাতে নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। নির্দিষ্ট রাকাত বাধ্যতামূলক না হলেও দুই রাকাত করে যতটা সম্ভব নামাজ পড়া উচিত। নামাজে কুরআন তিলাওয়াত, রুকু-সিজদায় দীর্ঘ দোয়া এবং খুশু-খুজুর সঙ্গে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা উত্তম।

কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, ইমানকে মজবুত করে। অন্তত কিছু আয়াত মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত করা ও অর্থ অনুধাবন করার চেষ্টা করা উত্তম।

দোয়া: নিজের জন্য, পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করা উচিত। আল্লাহর নৈকট্য লাভ, হালাল রিজিক ও সুন্দর পরিণতি কামনা করা যেতে পারে।

কবর জিয়ারত: মৃতদের জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। রাসুল (সা.) শবে বরাতের রাতে জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করতেন। ঘরে বসেও পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের রুহের মাগফিরাত কামনা করা যেতে পারে।

নফল রোজা: পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নত। এটি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ।

এ সময় থেকে বিরত থাকার বিষয়

আতশবাজি, ফানুস উড়ানো, অনর্থক আড্ডা ও বিদআতপূর্ণ আমল থেকে বিরত থাকা উচিত। শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষায় এসব কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা উত্তম।

শবে বরাত হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহাসুযোগ। এই রাতে ইবাদত, নামাজ, দোয়া ও আত্মসমালোচনা করে কাটানো পরকালীন জীবনের জন্য মঙ্গলকর হতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

মঙ্গলবার থেকে বাজারে মিলবে ১০ টাকার নতুন নোট

মঙ্গলবার থেকে বাজারে মিলবে ১০ টাকার নতুন নোট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজারে ছাড়ছে ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইনের ১০ টাকা... বিস্তারিত