ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শব-ই-বরাতের গুরুত্ব ও আমল
ডুয়া ডেস্ক: নিসফা মিন শাবান বা শাবান মাসের পনেরোতম রাতকে মুসলিম উম্মাহ শবে বরাত হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেয়। এই রাতটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আল্লাহ তাআলা মহিমান্বিত এই রাতে অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দেন। হাদিসে বর্ণিত আছে-
إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا يَوْمَهَا . فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيَقُولُ أَلاَ مِنْ مُسْتَغْفِرٍ فَأَغْفِرَ لَهُ أَلاَ مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلاَ مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلاَ كَذَا أَلاَ كَذَا حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ
অর্থাৎ “মধ্য শাবানের রাতে নামাজ আদায় করো এবং দিনে রোজা রাখো। সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আকাশে নেমে এসে বলেন, কে আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী আমি তাকে ক্ষমা করবো, কে রিজিকপ্রার্থী আমি তাকে রিজিক দান করবো, কে রোগমুক্তি প্রার্থনাকারী আমি তাকে নিরাময় দান করবো, এভাবে ফজরের আগ পর্যন্ত ডাকেন।” (ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮)
রাসুল (সা.) বলেন
يطلع الله إلى خلقه في ليلة النصف من شعبان، فيغفر لجميع خلقه إلا لمشرك أو مشاحن.
অর্থাৎ, মধ্য শাবানের রাতে আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকুলের দিকে দয়ার দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সকলকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)
শবে বরাতে করণীয় আমল
তওবা ও আত্মসমালোচনা: শবে বরাতে প্রথম কাজ হলো নিজের গুনাহের জন্য আন্তরিক তওবা করা। সারা বছরের ভুল, অবহেলা বা অজ্ঞাত পাপের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে দূরে থাকার অঙ্গীকার করা গুরুত্বপূর্ণ।
নফল নামাজ: এই রাতে নফল নামাজ আদায় করা উত্তম। নির্দিষ্ট রাকাত বাধ্যতামূলক না হলেও দুই রাকাত করে যতটা সম্ভব নামাজ পড়া উচিত। নামাজে কুরআন তিলাওয়াত, রুকু-সিজদায় দীর্ঘ দোয়া এবং খুশু-খুজুর সঙ্গে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা উত্তম।
কুরআন তিলাওয়াত: কুরআন তিলাওয়াত অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, ইমানকে মজবুত করে। অন্তত কিছু আয়াত মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত করা ও অর্থ অনুধাবন করার চেষ্টা করা উত্তম।
দোয়া: নিজের জন্য, পরিবার ও আত্মীয়দের জন্য, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে দোয়া করা উচিত। আল্লাহর নৈকট্য লাভ, হালাল রিজিক ও সুন্দর পরিণতি কামনা করা যেতে পারে।
কবর জিয়ারত: মৃতদের জন্য দোয়া করা সুন্নাহ। রাসুল (সা.) শবে বরাতের রাতে জান্নাতুল বাকিতে কবর জিয়ারত করতেন। ঘরে বসেও পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের রুহের মাগফিরাত কামনা করা যেতে পারে।
নফল রোজা: পরের দিন শাবান মাসের ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখা সুন্নত। এটি রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ।
এ সময় থেকে বিরত থাকার বিষয়
আতশবাজি, ফানুস উড়ানো, অনর্থক আড্ডা ও বিদআতপূর্ণ আমল থেকে বিরত থাকা উচিত। শবে বরাতের পবিত্রতা রক্ষায় এসব কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা উত্তম।
শবে বরাত হলো আত্মশুদ্ধি, ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহাসুযোগ। এই রাতে ইবাদত, নামাজ, দোয়া ও আত্মসমালোচনা করে কাটানো পরকালীন জীবনের জন্য মঙ্গলকর হতে পারে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- পাভেলকে ঘিরে ফের ভাইরাল পাঁচ মিনিটের ভিডিও
- একাদশ শ্রেণির ভর্তির ফল প্রকাশ আজ, যেভাবে দেখবেন
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৮ কর্মী আটক
- একাদশে ভর্তি আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে কখন
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১২ অক্টোবর পর্যন্ত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৫ সেপ্টেম্বর)
- আরও ৯০ দিন মেয়াদ বাড়ল ডাকসুর