ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২
বাজার থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে প্রবাসী আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তার মূল্য কমার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার ক্রয় করেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬টি ব্যাংক অংশগ্রহণ করে মোট ২১ কোটি ৮৫ লাখ মার্কিন ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে এই ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।
চলতি অর্থবছর (২০২৫-২৬) এখন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ৪১৫ কোটি মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২২ সালে দেশের ডলার বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। তখন প্রতি ডলারের দাম ৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১২২ টাকায় পৌঁছে। তৎকালীন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা পদক্ষেপ নিলেও বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করতে হয়। এরপরও বাজারে স্থিতিশীলতা সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসেনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭.৬ বিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩.৫ বিলিয়ন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২.৭৯ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছে মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
বর্তমান সরকার অর্থপাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে, যার কারণে স্বাভাবিকভাবে ডলারের দর কমার সম্ভাবনা ছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার ক্রয়ের মাধ্যমে বাজারে ভারসাম্য বজায় রেখেছে।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বর্তমানে বাজারে সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। ডলারের দাম যেন অস্বাভাবিকভাবে না কমে, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ক্রয় করছে। এতে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে না এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বাড়বে।
জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫.১০% বেশি। ডলার ক্রয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৯ জানুয়ারি ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ আছে ২৮.৬৮ বিলিয়ন ডলার। ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমে ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল।
এমজে/
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিডি থাই ফুড
- ইপিএস প্রকাশ করেছে কনফিডেন্স সিমেন্ট
- কী আছে এপস্টেইন ফাইলে? কেন এত হইচই বিশ্বজুড়ে?
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সোনালী পেপার
- ইপিএস প্রকাশ করেছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইজেনারেশন
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সিলকো ফার্মা
- ইপিএস প্রকাশ করেছে সাফকো স্পিনিং
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইন্দো-বাংলা ফার্মা
- নতুন জাতীয় দৈনিকে ক্যারিয়ার গড়ার বড় সুযোগ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ইনটেক
- এক লাফে ভরিতে ১৪ হাজার টাকা কমলো সোনার দাম
- ইপিএস প্রকাশ করেছে এসিআই
- ইপিএস প্রকাশ করেছে বার্জার পেইন্টস