ঢাকা, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬, ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
আজ বিশ্ব মা দিবস
পার্থ হক: মায়ের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ দিন আজ বিশ্ব মা দিবস। পৃথিবীর নানা প্রান্তে এই দিনটি ঘিরে আবেগ, স্মৃতি আর ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনে। বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে দিনটি পালিত হচ্ছে যথাযথ মর্যাদায়।
প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
‘মা’ শব্দটি পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ও পবিত্র একটি উচ্চারণ। কবির ভাষায় ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই, ইহার চেয়ে নাম যে মধুর ত্রিভুবনে নাই।’
মাকে ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিনের প্রয়োজন না থাকলেও, বিশেষ এই দিনে বিশ্বজুড়ে সন্তানরা তাদের মায়েদের স্মরণ করেন বাড়তি আবেগে। কারণ মা ও সন্তানের সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ও অটুট বন্ধনগুলোর একটি।
বাংলাদেশেও দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।
মা দিবসের ইতিহাস বহু পুরোনো। মধ্যযুগে ইউরোপে একটি প্রথা ছিল, যেখানে কর্মসূত্রে দূরে থাকা মানুষ লেন্টের চতুর্থ রোববারে নিজ বাড়ি ও মায়ের কাছে ফিরে আসতেন। সেই সময় ১০ বছর বয়স থেকেই অনেককে কাজের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। ফলে এই দিনটি পরিবারে ফিরে এসে একত্র হওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করত। ব্রিটেনে এটি ‘মাদারিং সানডে’ নামে পরিচিত ছিল। তবে লেন্টের তারিখ পরিবর্তনের কারণে দিনটিও নির্দিষ্ট থাকত না।
আধুনিক মা দিবসের সূচনা যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে প্রতি বছরের মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিনটি পালন করা হয়। আনা জারভিস নামে এক নারী দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে কাজ করেছিলেন। ১৯০৫ সালে তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগী হন। সেই বছরই তিনি তার সানডে স্কুলে প্রথম মা দিবস পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯০৭ সালের এক রোববার আনা মারিয়া একটি বক্তব্যে মায়ের জন্য আলাদা দিবসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে মা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ শতাধিক দেশে দিবসটি উদযাপিত হয়। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবেও ঘোষণা করেন।
মা দিবসে সন্তানরা মাকে উপহার দেন, সময় কাটান এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেন নানা উপায়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে ওঠে মা-সন্তানের স্মৃতিময় ছবি ও বার্তায়। বিভিন্ন ফ্যাশন হাউস ও উপহার সামগ্রীর দোকানগুলোও এ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করে, রেস্টুরেন্টগুলো দেয় নানা অফার।
সবকিছুর পরেও এই দিনের মূল তাৎপর্য একটাই মায়ের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের প্রতি গভীর সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানো।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- শিক্ষাবৃত্তি দেবে ইবনে সিনা ট্রাস্ট, আবেদন শুরু
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
- নতুন ট্রেন্ড: ক্রেয়ন স্টাইলে প্রোফাইল ছবি বানাবেন যেভাবে
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু
- ১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা
- আর্থিক প্রতিবেদনে নয়ছয়: ৩ অডিট ফার্ম ও ৪ অডিটর নিষিদ্ধ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতন নিয়ে যা জানাল মাউশি
- বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন পরিচালক নজরুল ইসলাম