ঢাকা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা

২০২৬ মে ০৪ ১৫:২১:০০

১:৮ অনুপাতে নতুন পে স্কেল, বরাদ্দ ৩৫ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাই মাস থেকেই এর আংশিক কার্যকর শুরু হতে পারে এবং এ লক্ষ্যে আসন্ন বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব তৈরি করে বাজেটের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর এটি চূড়ান্ত করা হবে। সিদ্ধান্ত হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে।

প্রস্তাবিত কাঠামোয় ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে বেতন গ্রেড আগের মতোই ২০টি রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১:৯ দশমিক ৪। সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য বিদ্যমান ২০ গ্রেডের বাইরে আলাদা ধাপ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম বছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি দেওয়া হতে পারে এবং পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অংশ কার্যকর করা হবে। ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ভাতা সংযোজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে বেতন কমিশনের প্রতিবেদনের আলোকে পুনর্গঠিত কমিটি। এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন গত ২১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্যও পৃথক বেতন কাঠামো সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব প্রতিবেদনের সুপারিশ সমন্বয় করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রথম ধাপে মূল বেতন বৃদ্ধির জন্য বাজেটে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। পরবর্তী ধাপগুলোতে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত ব্যয় সংযোজন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সচিব কমিটির সুপারিশ এখনো পর্যালোচনায় রয়েছে এবং বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় আছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে, এরপর চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে।

এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নবম পে কমিশন বাস্তবায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখলেও তা পরে স্থগিত করা হয়। তবে বর্তমান প্রস্তাবে ২০টি বেতন গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন যথাক্রমে ২০ হাজার ও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

দেশের বাজারে নাটকীয়ভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ফের কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত