ঢাকা, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই বছর ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও ১০টি ব্যাংককে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ১৫টিই এখন নিম্নমানের শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
এর আগে গত সপ্তাহেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংককেও একই কারণে নিম্নমানের ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই গণ-অবনমনের মূল কারণ হলো খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ ‘প্রভিশন ঘাটতি’। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দায় পরিশোধে বিশেষ সময় নিলেও লভ্যাংশ দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় তারল্য বা আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর করুণ দশা ফুটে উঠেছে। এবি ব্যাংক ৩,৮৮৯ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংক ২,৫৬০ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে। প্রভিশন ঘাটতির দিক থেকেও ব্যাংকগুলো ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে; যেখানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪,৬১৫ কোটি টাকায়। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৪,০১৪ কোটি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬,০৮৯ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। ইউসিবি, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সামান্য মুনাফা দেখাতে পারলেও তাদের প্রত্যেকেরই কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি থাকায় লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোনো শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার অর্থ হলো সেটি বিনিয়োগের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। এই ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনে কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হয়, যার ফলে মার্জিন ঋণের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় এবং লেনদেন নিষ্পত্তিতেও বেশি সময় লাগে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণের ফলে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের পাহাড়ই আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ২০২৪ সাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ির ফলে ব্যাংকগুলোর ভেতরের জরাজীর্ণ অবস্থা এখন জনসমক্ষে আসছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪২ শতাংশই এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ফাটল ধরিয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বিআইডব্লিউটিসির নতুন চেয়ারম্যান এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- বাজারের ৩৪ টুথপেস্টের ২৬টিতে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক
- ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে ২৪ শিক্ষার্থী পেলেন ডিরেক্টরস অ্যাওয়ার্ড
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২২ জুলাই)
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৪ জুলাই)
- শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত ১২ কর্মকর্তা
- গাজী নজরুলকে বিয়েতে অনড় ছিল মেয়েটি
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৫ জুলাই)