ঢাকা, রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩
‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামলো আরও ১০ ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই বছর ডিভিডেন্ড প্রদানে ব্যর্থ হওয়ায় দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আরও ১০টি ব্যাংককে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস থেকেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ১৫টিই এখন নিম্নমানের শেয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে, যা পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, নতুন করে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—এবি ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)।
এর আগে গত সপ্তাহেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক ও এসবিএসি ব্যাংককেও একই কারণে নিম্নমানের ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই গণ-অবনমনের মূল কারণ হলো খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর বিপুল পরিমাণ ‘প্রভিশন ঘাটতি’। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি থাকে, তারা শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না। অনেক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দায় পরিশোধে বিশেষ সময় নিলেও লভ্যাংশ দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় তারল্য বা আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি।
২০২৫ সালের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর করুণ দশা ফুটে উঠেছে। এবি ব্যাংক ৩,৮৮৯ কোটি টাকা এবং আইএফআইসি ব্যাংক ২,৫৬০ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে। প্রভিশন ঘাটতির দিক থেকেও ব্যাংকগুলো ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে; যেখানে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৪,৬১৫ কোটি টাকায়। এছাড়া রূপালী ব্যাংকের ১৪,০১৪ কোটি এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৬,০৮৯ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে। ইউসিবি, ওয়ান ব্যাংক, মার্কেন্টাইল এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সামান্য মুনাফা দেখাতে পারলেও তাদের প্রত্যেকেরই কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি থাকায় লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
কোনো শেয়ার ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার অর্থ হলো সেটি বিনিয়োগের জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া। এই ক্যাটাগরির শেয়ার লেনদেনে কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য হয়, যার ফলে মার্জিন ঋণের সুবিধা বন্ধ হয়ে যায় এবং লেনদেন নিষ্পত্তিতেও বেশি সময় লাগে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া ঋণ বিতরণের ফলে সৃষ্ট খেলাপি ঋণের পাহাড়ই আজকের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। ২০২৪ সাল থেকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়াকড়ির ফলে ব্যাংকগুলোর ভেতরের জরাজীর্ণ অবস্থা এখন জনসমক্ষে আসছে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪২ শতাংশই এখন ‘জেড’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ফাটল ধরিয়েছে।
এমজে/
শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের ১ম টি-টোয়েন্টি-দেখুন সরাসরি (LIVE)
- স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের
- বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ শেষ-জেনে নিন ফলাফল
- বিকালে আসছে ১৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- ঢাবি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত
- গান-কবিতায় প্রাণবন্ত ডুপডা’র বৈশাখ উৎসব
- বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের সিনেট সদস্য হলেন ৫ সংসদ সদস্য
- স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন
- ১২৩তম প্রাইজবন্ড ড্র: দেখে নিন কোন নম্বরগুলো জিতল
- ‘সিলটি’ ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবি
- ঢাবি শিক্ষার্থীর মরদেহ বাসা থেকে উদ্ধার
- বিকালে আসছে ৫৯ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস
- মিমোর মৃ'ত্যু ঘিরে সর্বশেষ যা জানা গেল
- বিমান বাংলাদেশের নতুন পরিচালক নাসির উদ্দিন অসীমকে ঢাবি অ্যালামনাইয়ের শুভেচ্ছা
- জাপানের মেক্সট স্কলারশিপে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আবেদন শুরু