ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩

এক সপ্তাহেও ফটোকার্ডের উৎস শনাক্তে অগ্রগতি হয়নি ঢাবির

২০২৬ মে ০১ ১৮:৩৩:৫৯

এক সপ্তাহেও ফটোকার্ডের উৎস শনাক্তে অগ্রগতি হয়নি ঢাবির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ছড়ানো আলোচিত ফটোকার্ডের সত্যতা ও উৎস শনাক্তে গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। এক সপ্তাহ পার হলেও প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং একাধিক উৎস থেকে তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন থাকায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের ৪৮ ঘণ্টার সময় দেওয়া হয়েছিল। ওই সময়ের মধ্যেই একটি ড্রাফট প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা সবাই আইটি বিশেষজ্ঞ নই, ফলে কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “এ ধরনের তদন্তে যেসব উন্নত প্রযুক্তিগত অ্যাক্সেস প্রয়োজন, তা আমাদের হাতে নেই, যেমনটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর থাকে। তাই একাধিক সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করতে সময় লাগছে। এ কারণেই সময় বাড়িয়ে বিভিন্ন সোর্স থেকে ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে।”

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ফটোকার্ডটির সত্যতা ও উৎস নির্ধারণে কাজ অব্যাহত আছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হয়নি এবং কবে নাগাদ প্রতিবেদন সম্পন্ন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, সদস্য সচিব সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদ এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ২৩ এপ্রিল, যখন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র এবং ঢাবি শিবিরের সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন এমন একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফটোকার্ডটিকে ভুয়া দাবি করে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।এর পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানায় অবস্থান নেন। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে শাহবাগ থানায় ডাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দ গেলে তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। ওই দিনই ফটোকার্ডটি যাচাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এদিকে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, আলোচিত পোস্টটি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নয়।তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে ‘Eshan Chowdhury’ নামের একটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট (পূর্বে নাম ছিল Albert Garrison) থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে এআই-নির্মিত একটি ভুয়া ছবি ও কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন পোস্ট করা হয়।

এর ১২ মিনিট পর ওই পোস্টে Ahmed Habib নামের একজন মন্তব্য করেন। এরপর ২টা ৫২ মিনিটে পোস্টটির স্ক্রিনশট নেওয়া হয়, যার সময় পোস্টটির বয়স ছিল মাত্র ১৮ মিনিট।

পরবর্তীতে ২টা ৫৭ মিনিটে ‘LE O’ নামের বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত আওয়ামীপন্থী একটি অ্যাকাউন্ট থেকে স্ক্রিনশটটি পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, এটি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের পোস্ট।

রিউমার স্ক্যানারের বিশ্লেষণে বলা হয়, স্ক্রিনশটটি সম্পাদনা করে মূল অ্যাকাউন্টের নাম ও ছবি পরিবর্তন করে ভুয়া তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সম্পাদনার অসংগতি, যেমন ক্যাপশনের অক্ষর আংশিকভাবে ঢেকে যাওয়া—এসব বিষয়েও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

দেশের বাজারে নাটকীয়ভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ফের কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত