ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

ঢাবির শিক্ষার্থী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা

২০২৬ জুন ২৫ ১৪:৫৫:৫৬

ঢাবির শিক্ষার্থী ও তার মা-বোনকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে দুই মেয়েসহ এক মাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী সায়মা আক্তার (২১) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শাহিনুরের মেজো মেয়ে কলেজছাত্রী ইকরা আক্তার (১৭)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক অজ্ঞাত যুবককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উত্তেজিত জনতার ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

তবে কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কিছু জানাতে পারেনি।

নিহতদের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তারা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। নিহত সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং আহত ইকরা রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শাহিনুর বেগমের স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শাহিনুর ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে শাহিনুর, সায়মা ও শিফা নিহত হন। গুরুতর আহত হন ইকরা।

ঘটনার পর স্থানীয়রা সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আহত অবস্থায় আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুই মেয়ে ও তাদের মা মারা গেছেন। অপর এক মেয়েকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া গণপিটুনিতে আহত অভিযুক্ত যুবকের মাথাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, তিনজন নিহত হয়েছেন এবং তাদের মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন যুবককে গণপিটুনির পর চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের ৬ থেকে ৭ জন সদস্য আহত হন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত