ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি

২০২৬ জুন ২৩ ১৪:১৮:৪৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে ‘বিতর্কিত কর্মকাণ্ড’ ও শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরও দুজনকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সোমবার (২২ জুন) রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন। একই বৈঠকে ২০১৯ সালের ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থানসহ বিভিন্ন অভিযোগে জড়িত থাকার অভিযোগে লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া এবং নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত বাংলা বিভাগের শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘যে তিনজন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান ঘিরে নানা অভিযোগ ছিল। আর অধ্যাপক আজমল হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হুমকি ও নারী শিক্ষার্থীদের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে একাডেমিক কমিটির সুপারিশ ছিল। সেই আলোকে তাকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’

এছাড়া ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানীর ছাত্রত্ব বৈধ না থাকায় তার পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, গোলাম রাব্বানীর জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তার স্থলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া রাশেদ খানকে জিএস ঘোষণা করা যাবে কি না সে বিষয়টি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ