ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বাংলাদেশের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক চায়, সিদ্ধান্ত ভারতের
নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান করে বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, তাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ভারতের সরকারকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কী ধরনের সম্পর্ক ভারত চায়, সে বিষয়ে দেশটির অবস্থানও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের দেওয়া বিবৃতিতে কূটনৈতিক ভাষায় যতটুকু একটি দেশকে বোঝানো সম্ভব, তা তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বারবার বলেছে, ভারতের উচিত তাদের অবস্থান পরিষ্কার করা বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কেমন সম্পর্ক চায়। শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সেটিও ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।
তিনি বলেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের বক্তব্য দিলে এবং ভারত সরকার সেটি অনুমোদন করলে, তা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যেতে পারে, সে সম্পর্কেও প্রশ্ন তৈরি হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক উন্নত হোক এটি দুই দেশের সরকার ও জনগণেরই প্রত্যাশা। তবে ভারতের মাটিতে অবস্থান করে স্বৈরাচারী, ফ্যাসিবাদী, সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী এবং দলটির প্রধান যদি ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যান এবং ভারত সরকার তা বন্ধ না করে, তাহলে সেটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহু দ্বিপাক্ষিক বিষয় রয়েছে, যেগুলোর সমাধান সংলাপ, আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে করতে হবে। বাংলাদেশ আলোচনায় বসতে চায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ অব্যাহত রাখা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ভারতকেই নিতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, সেটিও দেশটির নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে বাংলাদেশ চায়, দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সম্পর্ক ভালো থাকুক। সেই সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান বজায় রেখে এবং উভয় দেশের স্বার্থ সংরক্ষণের মাধ্যমে। ভারত বিষয়টি অনুধাবন করতে পারলে তা সবার জন্যই মঙ্গলজনক হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকের প্রসঙ্গেও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুটি দেশের সম্পর্কের নানা মাত্রা থাকে। শেখ হাসিনা বা তার সহযোগীরা চাইতে পারেন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি নির্দিষ্ট ইস্যুতেই আটকে থাকুক, কিন্তু বাংলাদেশ তা চায় না।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা, পানি বণ্টন, সীমান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে। এসব সংলাপ ও আলোচনা চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষপর্বের ফল প্রকাশ
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে যেতে টিকিট কাটবেন যেভাবে
- চেয়ারম্যান-মেম্বার পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যা জানা গেল
- ভাতা-উপবৃত্তির আবেদন শুরু, জেনে নিন পদ্ধতি
- দেশের বাজারে ফের বেড়েছে সোনার দাম
- ‘গুলশানের চামেলি’ তে যৌনকর্মীর দালাল অ্যাডলফ খান
- আজ শুক্রবার রাজধানীর যেসব মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ
- কবে শুরু হচ্ছে ঢাবির ভর্তি আবেদন, জানাল কর্তৃপক্ষ
- ইপিএস প্রকাশ করেছে ঢাকা ব্যাংক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৪ আগস্ট)
- কবে হবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা, জানা গেল যা
- নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে সর্বশেষ যা জানা গেল
- এক ক্লিকে জেনে নিন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম ও ফিচার