ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার ঘটনায় বিচার এবং বিভাগে চলমান কথিত নিপীড়ন বন্ধের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জোরালো করেছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। সমাবেশে তারা সাত দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
গত রোববার রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বাড্ডা থানায় মিমোর বাবা একই অভিযোগে মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় আয়োজিত সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা। পাশাপাশি বিভাগের চেয়ারম্যানসহ শিক্ষকেরাও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তামান্না হক সিগমা বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে বিভাগের সব শিক্ষক একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং প্রক্টর ও ডিনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সুদীপ চক্রবর্তীকে ক্লাস, পরীক্ষা ও বিভাগের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংরক্ষণের জন্য শিক্ষকের কক্ষে তালা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো প্রমাণ নষ্ট না হয়।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, এখন পর্যন্ত প্রশাসনের কাছ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে ডাকসু যুক্ত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, মিমোর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ সেলের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
শিক্ষার্থী ফারিহা তাসনিম হৃদি বলেন, তদন্ত যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও অনুরোধ করেন, এ ঘটনায় যেন কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না হয় এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতে গণমাধ্যমও ভূমিকা রাখে।
আরেক শিক্ষার্থী অর্ক বড়ুয়া বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি জানিয়ে প্রক্টর ও উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করার ঘোষণা দেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন করবেন যেভাবে
- না ফেরার দেশে চলে গেলেন ‘সিআইডি’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতা
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২৬ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩১ অক্টোবর)
- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৯৫ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আনসার-ভিডিপিতে ২২৮ পদে নিয়োগ, আবেদন অনলাইনে
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ অক্টোবর)
- মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুকদের সুখবর দিল সরকার
- ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ
- ঢাবির ৫৪তম সমাবর্তনে আবেদন করবেন যেভাবে, জানুন বিস্তারিত
- নভেম্বরের শুরুতে টানা তিন দিনের ছুটি পাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩০ অক্টোবর)
- ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এমপির ছেলেকে যুবদল থেকে বহিষ্কার
- জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী