ঢাকা, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের

২০২৬ জুলাই ২৬ ১৯:০১:৩৭

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে ১১ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ।

রোববার সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হাতে এসব সুপারিশ তুলে দেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্জিন ঋণে বৈষম্য দূর করা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা, তালিকাচ্যুতি ও বাইব্যাকে বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, নীতিনির্ধারণে বিনিয়োগকারীদের মতামত গ্রহণ, রিয়েল-টাইম মনিটরিং চালু, বিশেষ তহবিল গঠন, মিউচুয়াল ফান্ড সংস্কার এবং ক্যাটাগরি বৈষম্য বিলোপ।

সংগঠনটির প্রতিনিধিরা বলেন, এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার সহজ হবে।

সুপারিশপত্রে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের শেয়ারবাজার গভীর সংকটে পড়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে বাজারে শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বাজারের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, বর্তমানে প্রস্তাবিত মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বিভিন্ন শেয়ারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ঋণসীমা নির্ধারণের পরিবর্তে সব শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান মার্জিন সুবিধা নিশ্চিত করা। আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবিও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিওতে সর্বোচ্চ আবেদনসীমা পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং পুনরায় লটারিভিত্তিক শেয়ার বরাদ্দ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ‘রেড জোনে’ থাকা কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার আগে পুনর্গঠনের জন্য অন্তত দুই বছর সময় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপরও তালিকাচ্যুতির প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার বাজারদর বা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে কিনে নেওয়ার (বাইব্যাক) ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সুপারিশে আরও বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজারে প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হওয়ায় বাজার-সংক্রান্ত নীতি প্রণয়নের সময় তাদের প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্তে রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু এবং বাজারে তারল্য বাড়াতে তিন শতাংশ সুদে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ তহবিলের অর্থ আইসিবির মাধ্যমে ব্রোকারেজ হাউস হয়ে পাঁচ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ হিসেবে বিতরণের প্রস্তাবও রয়েছে।

সংগঠনটি আরও সুপারিশ করেছে, মিউচুয়াল ফান্ডের অন্তত ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা এবং মেয়াদি (ক্লোজড-এন্ড) ফান্ডগুলোর মেয়াদ না বাড়িয়ে সেগুলোকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর করা। পাশাপাশি ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫ কার্যকর বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন, বর্তমান এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরি বাতিল করে নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের মতে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের শেয়ারবাজার আরও স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব হবে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৫ জুলাই)

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দুই দফা মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরি... বিস্তারিত