ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিত, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ১১ নম্বর কক্ষে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সহ-আয়োজক ও অন্যান্য অংশীদারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা চরম বৈষম্য, নিপীড়ন ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন।
প্রথম প্রস্তাব
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করতে হবে এবং তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাব
রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নিজভূমিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যেন তারা নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আস্থা ফিরে পান।
তৃতীয় প্রস্তাব
রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমেয় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আতিথেয়তার কারণে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিবেচনায় নিতে হবে।
চতুর্থ প্রস্তাব
টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুতর অপরাধের জন্য দায়ীদের অবশ্যই কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পঞ্চম প্রস্তাব
এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা উসকে দেওয়া মাদকভিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- অক্টোবরে জ্বালানি তেলের নতুন দাম ঘোষণা মন্ত্রণালয়ের
- পে স্কেল বাস্তবায়নে মাউশির নতুন নির্দেশনা
- বেসরকারি মাদ্রাসার শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতার চেক ছাড়
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ১০ দিনের ছুটির সুযোগ
- ব্রাজিল বনাম ভারত: সরাসরি দেখুন এখানে
- আজকের নামাজের সময়সূচি (২ অক্টোবর)
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ৯ গোল খেয়ে দুই ফুটবলারের ‘নারীসঙ্গ’ নিয়ে যা জানা গেল
- যে কারণে স্থগিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ম্যাচ
- আজকের নামাজের সময়সূচি (১ অক্টোবর)
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল