×

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৮ ২০:৪৯:৪৩

আবারও লংমার্চের ঘোষণা ১১ দলীয় ঐক্যের

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে গত ৫ সেপ্টেম্বর লংমার্চের পর এবার রংপুরের পথে নামছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। এর দুই সপ্তাহের মাথায় আগামীকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফায় ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করবে তারা।

রাজধানীর ঐতিহাসিক মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শনিবার সকাল ৭টায় লংমার্চ পূর্ব বৃহৎ সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হবে। ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের দাবি, দ্বিতীয় লংমার্চে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীর সংখ্যা প্রথম লংমার্চের তুলনায় আরও বেশি হবে।

প্রথম লংমার্চে ছয় দফা দাবি সামনে রাখা হলেও এবার তা বেড়ে আট দফায় দাঁড়িয়েছে। নতুন দাবিগুলোর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের দুই ভিন্ন অঞ্চলে বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে জোটটি জাতীয় দাবির পাশাপাশি আঞ্চলিক ইস্যুকেও আন্দোলনের কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করছে। এর মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রচেষ্টাও চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর বাইরে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে রাজনৈতিক উপস্থিতি ধরে রাখার পরিকল্পনাও স্পষ্ট হচ্ছে।

ছয় থেকে আট দফা

গত ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চে ছয় দফা দাবির মধ্যে ছিল গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকটসহ জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ।

রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি ঘোষণার সময় আগের ছয় দফার সঙ্গে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধের দাবি যোগ করা হয়। এতে দাবির সংখ্যা সাতটিতে দাঁড়ায়। পরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হওয়ায় ১৯ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে মোট আট দফা দাবি রাখা হয়েছে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় রংপুরের কর্মসূচিতে জাতীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের একটি আঞ্চলিক সমস্যাও গুরুত্ব পেয়েছে। তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা, বন্যা, নদীভাঙন ও কৃষির সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা সরাসরি জড়িত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নকে কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর

শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে লংমার্চ পূর্ব সমাবেশ হবে। সকাল ৮টার দিকে সেখান থেকে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে। পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পাঁচটি পথসভা হবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চে প্রায় সহস্রাধিক যানবাহন যুক্ত হবে। শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, অভ্যর্থনা, চিকিৎসা, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক টিমও গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম।

লংমার্চ উপলক্ষে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন। কোনো উসকানিতে না জড়িয়ে নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার কথাও জানান তিনি। লংমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আগাম দুঃখপ্রকাশও করেন জামায়াতের এই নেতা।

ধারাবাহিক আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ

ঢাকা-রংপুর লংমার্চকে বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না ১১ দলীয় ঐক্য। গত ৬ আগস্ট ঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা–চট্টগ্রাম লং মার্চের পর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া ১৪ নভেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণাও রয়েছে।

চট্টগ্রামের পর রংপুরকে দ্বিতীয় গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করায় আন্দোলনের ভৌগোলিক পরিসরও বাড়ছে। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান বন্দর ও শিল্পাঞ্চলকেন্দ্রিক একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। অন্যদিকে রংপুরের কর্মসূচিতে তিস্তার মতো আঞ্চলিক ইস্যু যুক্ত হওয়ায় আন্দোলনের রাজনৈতিক ভাষায় ভিন্ন মাত্রা এসেছে।

১১ দলের আন্দোলনে এখন গণভোটের রায়, বিচার, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সংকটের মতো জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বিষয়ও স্থান পেয়েছে।

সংসদ ও রাজপথ—দুই পথেই চাপ

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও এসব দাবি তুলে ধরছেন। ৫ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের সময় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের কর্মসূচিটিকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক-আপ কল’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে বিরোধীদলের সংসদীয় কার্যক্রমেও এসব ইস্যু উত্থাপিত হচ্ছে। রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদে জনগণের স্বার্থ ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তুলে ধরার পাশাপাশি রাজপথেও তারা ভূমিকা রাখছেন।

এই ধারাবাহিকতায় লংমার্চকে শুধু এক দিনের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে সংসদীয় রাজনীতি ও রাজপথের কর্মসূচি পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বার্তা

চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চের মাত্র দুই সপ্তাহ পর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্য তাদের ঘোষিত ধারাবাহিক আন্দোলন এগিয়ে নিচ্ছে। প্রথম কর্মসূচির ছয় দফা থেকে দ্বিতীয় কর্মসূচিতে আট দফায় যাওয়া এবং তিস্তার মতো আঞ্চলিক দাবি যুক্ত হওয়ার বিষয়টি আন্দোলনের বিস্তৃতির দিকটিও সামনে এনেছে।

রংপুর লংমার্চে জনসম্পৃক্ততা কতটা হয়, কর্মসূচি কতটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় এবং এসব দাবির বিষয়ে সরকারের প্রতিক্রিয়া কী থাকে—এসব বিষয়েই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজর থাকবে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে খুলনা–যশোর–কুষ্টিয়া ও সিলেটে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পরিকল্পনা অনুযায়ী কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটিও ১১ দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক রাজপথের কর্মসূচির পরিধি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ফের বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়ল

ডুয়া ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পর বিনিয়োগকারীরা এর প্রভাব পর্যালোচনা করছেন। একই... বিস্তারিত