×

ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ভেটিংয়ে নবম পে-স্কেলের খসড়া, গেজেট জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৯:০৪:৪১

ভেটিংয়ে নবম পে-স্কেলের খসড়া, গেজেট জারির প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট জারির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের জন্য উঠেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভেটিংয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাকি কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং-সংক্রান্ত প্রায় সব কাজ শেষ হয়েছে। অল্প কিছু কার্যক্রম এখনো বাকি আছে। সেগুলো আজ বিকেলের মধ্যেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট আজ জারি করা হতে পারে। গেজেট জারির বিষয়ে কাজ চলছে।’

গত ৩১ আগস্ট সরকার নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করে। এক সপ্তাহের মধ্যেই এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারেনি। এ কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

তবে প্রজ্ঞাপন জারি নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁদের ভাষ্য, গেজেট নিয়ে শিগগিরই চাকরিজীবীরা সুখবর পেতে যাচ্ছেন।

কার কত বেতন বাড়ছে

এক দশকের বেশি সময় পর সরকারি চাকরিজীবীরা যে নতুন বেতন কাঠামো পাচ্ছেন, তাতে কারও কারও বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ এসব গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন আগের তুলনায় দ্বিগুণ হচ্ছে।

অন্যদিকে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর ২০তম গ্রেডে মূল বেতন দাঁড়িয়েছে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা। আর প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই পে-স্কেল মোট তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই মাস হিসাব করেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নতুন বেতন-ভাতা দিতে সরকারের বছরে অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।

যেভাবে এলো নতুন পে-স্কেল

এর আগে ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।

এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছিল। যাতায়াত ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ব্যাপক সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।

এরপর বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর চলতি বছরের ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ আমলে নিয়ে নতুন বেতন কাঠামোর অনুমোদন দেয় তারেক রহমানের সরকার।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত