ঢাকা, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের

২০২৬ এপ্রিল ২৭ ২১:০৯:২৯

স্কুলছাত্রী থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধার সাথে অন্তরঙ্গের পর ভিডিও কুয়েট ছাত্রের

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) এক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত অনলাইন স্টোরেজে (গুগল ড্রাইভ) অসংখ্য নারীর আপত্তিকর ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়ার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নাম হাসিব, যিনি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২০ ব্যাচের ছাত্র। তার সংগৃহীত ভিডিওতে স্কুলছাত্রী থেকে শুরু করে ষাটোর্ধ্ব নারী পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সের মানুষের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার (২৬ এপ্রিল)। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ল্যাবের কম্পিউটারে নিজের গুগল ড্রাইভ অ্যাকাউন্ট লগইন করেছিলেন হাসিব। কাজ শেষে তিনি লগ আউট করতে ভুলে যান। পরবর্তীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইইএম) বিভাগের ২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ওই ল্যাবে কাজ করতে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ওই গুগল ড্রাইভে বিভিন্ন নারীর নামে আলাদা আলাদা ফোল্ডার করা ছিল, যেখানে ছবি ও ভিডিওগুলো ‘ট্রফি’ হিসেবে জমা রাখা হয়েছিল। সেখানে থাকা কন্টেন্টগুলোর ধরন দেখে শিক্ষার্থীদের ধারণা, হাসিব ডজনখানেক নারীর সাথে জোরপূর্বক বা ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন এবং সেসব দৃশ্য ধারণ করে রেখেছেন।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর গত রাতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফজলুল হক হলে গিয়ে হাসিবের কাছে এসব ঘটনার ব্যাখ্যা চান। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির সদস্যরা হলেন ফজলুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আরিফুজ্জামান, খান জাহান আলী হলের প্রভোস্ট ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইলিয়াস আখতার এবং সহকারী ছাত্রকল্যাণ পরিচালক রাজন কুমার রাহা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাসান আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অভিযোগটিকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, লৈঙ্গিক সহিংসতা ও এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে হাসিবের সহপাঠীদের মাঝেও চরম ঘৃণা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সিএসই বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এমন জঘন্য অপরাধে অভিযুক্তের সাথে তারা একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না। একইসাথে তারা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

৩ কোটি ডলার ঋণ পাচ্ছে প্রাইম ব্যাংক; চাঙ্গা হবে এসএমই ও কৃষি খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বেসরকারি খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংক পিএলসি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা ‘ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’... বিস্তারিত