ঢাকা, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

২০২৬ জুন ১৩ ১৬:৪৭:৩১

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই সাংস্কৃতিক স্বকীয়তার ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের ভিত্তি হিসেবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদই মূল শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের স্বকীয়তা রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে আরও সুসংহত করা প্রয়োজন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা হলে ‘দেশ পুনর্গঠনে স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে ধারণ করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত সংগঠন ‘আমরা বাংলাদেশি’।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অনেকেই বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারেন। তবে আমাদের মনোজগত ও সংস্কৃতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক পার্থক্য রয়েছে। যারা এই পার্থক্যকে অস্বীকার করেন, তারা হয় বাস্তবতা বোঝেন না, নয়তো কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অবস্থান থেকে তা করেন।

সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ভূখণ্ডের মানুষের আলাদা একটি পরিচয় রয়েছে, যার জন্য বাইরের কারও কাছ থেকে কোনো সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি ইতিহাসের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে বলেন, এ অঞ্চলের সমাজ কাঠামো, ধর্মীয় পরিবর্তন ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে উঠেছে, যা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পক্ষ ও বিপক্ষ শক্তি নিয়ে যে কৃত্রিম বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল, তা বর্তমান নেতৃত্বের মাধ্যমে অনেকটাই ভেঙে পড়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিশীলতা এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের রাজনৈতিক সংকট ও অস্থিরতার মধ্যেও জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এখন আরও সুসংহত হয়েছে। তার ভাষায়, দেশের বর্তমান পার্লামেন্ট এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সার্কই প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। কোনো কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সৈয়দ এহসানুল হুদা, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মোমিনুল আমিন এবং বিএনপি নেতা মো. রাশেদ খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত