ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
অর্থসংকটে কার্যক্রম ব্যাহত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই শহীদ ও আহতদের সহায়তায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। তবে প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থের অভাবে গত ছয় মাস ধরে অফিসের ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কর্মীদের বেতনও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধা। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম পরিচালনায় মোট ৩৮৩ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনুদান ও সরকারি বরাদ্দ মিলিয়ে তারা পেয়েছে ১২৪ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে ৮৩১টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪২ কোটি টাকা এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে ৭৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান অর্থসংকটের কারণে আহতদের চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, অনেক আহত ব্যক্তি এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাননি।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফাউন্ডেশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের। তাই এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নিতে নিয়মিত সরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে জাতিসংঘের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারের গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। বাকি নিহতদের শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের কর্মীদের বেতন ও অফিস পরিচালনার বিষয়টি সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা সরকারের বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন বাজেটের বরাদ্দের মধ্যে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে কর্মীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেটি সরকারের কোনো অর্থ ছিল না। আমি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। অবসরের পর পাওয়া আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে, বিনা সুদে ও বিনা জামানতে জুলাই ফাউন্ডেশনকে ঋণ দিয়েছিলাম। সেই ঋণের অর্থ থেকেই কর্মীদের ঈদের আগে এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল।’
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- পর্নো তারকা থেকে কলম্বিয়ার সিনেটর দেইসি
- ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি হলেন অধ্যাপক ড. সালমা বেগম
- ইউজিসির তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির সুযোগ, আবেদন ২০ আগস্ট পর্যন্ত
- ঢাবিতে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব স্থগিত
- অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের ৫০ হাজার টাকা অনুদান, আবেদন যেভাবে
- শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে ১১ দফা দাবি বিনিয়োগকারীদের
- বিআইডব্লিউটিসি'র চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করলেন এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী
- ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান
- সিন্ডিকেট সভা ঘেরাও করলেন ডাকসু নেতারা
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৮ জুলাই)
- সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন দুই কর্মকর্তা
- হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য ড. মুজাম্মেল হক
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২৭ জুলাই)
- আজকের খেলার সময়সূচি (২৭ জুলাই)