ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
অর্থসংকটে কার্যক্রম ব্যাহত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর জুলাই শহীদ ও আহতদের সহায়তায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন। তবে প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থের অভাবে গত ছয় মাস ধরে অফিসের ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে কর্মীদের বেতনও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, ফাউন্ডেশনের কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধা। আর্থিক সংকটের মধ্যেও তারা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং এর লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।
ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম পরিচালনায় মোট ৩৮৩ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু অনুদান ও সরকারি বরাদ্দ মিলিয়ে তারা পেয়েছে ১২৪ কোটি টাকা। এ অর্থের মধ্যে ৮৩১টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪২ কোটি টাকা এবং ৬ হাজার ১২৭ জন আহত ব্যক্তির মধ্যে ৭৮ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তবে বর্তমান অর্থসংকটের কারণে আহতদের চিকিৎসা সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের ভাষ্য, অনেক আহত ব্যক্তি এখনও তাদের প্রাপ্য সহায়তা পাননি।
এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ফাউন্ডেশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব মূলত রাষ্ট্রের। তাই এ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে নিতে নিয়মিত সরকারি অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে জাতিসংঘের তথ্যমতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে সরকারের গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৩। বাকি নিহতদের শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কামাল আকবর বলেন, ‘ফাউন্ডেশনের কর্মীদের বেতন ও অফিস পরিচালনার বিষয়টি সরকারের দায়িত্ব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা সরকারের বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসন্ন বাজেটের বরাদ্দের মধ্যে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’
কর্মীদের বেতন বকেয়া থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে কর্মীদের এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। সেটি সরকারের কোনো অর্থ ছিল না। আমি অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল। অবসরের পর পাওয়া আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে, বিনা সুদে ও বিনা জামানতে জুলাই ফাউন্ডেশনকে ঋণ দিয়েছিলাম। সেই ঋণের অর্থ থেকেই কর্মীদের ঈদের আগে এক মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছিল।’
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ১১তম মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
- ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক সিরাজুল হক আর নেই
- ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা
- চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটির সুযোগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ সেপ্টেম্বর)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জাপানি ভাষা বিষয়ক `NAT-Test`সেবা চালুর লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
- মব হেনস্তার প্রতিবাদে ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান তাহসিনের
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ জন নিয়োগ, আবেদন শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর
- ছবিতে সাফল্য আর বাস্তবে সংগ্রাম, প্রবাস জীবনের অদেখা গল্প
- নটর ডেম কলেজের একাদশের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ
- পে-স্কেলের গেজেট কেন প্রকাশ হচ্ছে না, জানা গেল রহস্যময় তথ্য
- এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল আজ, জানা যাবে ৩ উপায়ে
- দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব বাড়াল সরকার
- যে কারণে বিলম্ব হচ্ছে পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ সেপ্টেম্বর)