ঢাকা, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর? যা বলছে পুলিশ

২০২৬ আগস্ট ০২ ১৫:০৭:৪২

দুবাইয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর? যা বলছে পুলিশ

ডুয়া ডেস্ক: দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ জামিনে মুক্ত হয়েছেন এমন খবর প্রকাশ করেছে দেশের একটি অনলাইন গণমাধ্যম। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

অনলাইন গণমাধ্যম এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) একটি আদালত গত সোমবার (২৭ জুলাই) বেনজীর আহমেদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি দুবাইয়ের কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনি জামিনে মুক্ত হয়েছেন এবং শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এশিয়া পোস্টের দাবি অনুযায়ী, আদালত জামিনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন। শর্ত অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি হয়। শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা বিষয়টি যাচাই করছি।’

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি পদে এক দশকের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এরপর ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আইজিপি পদ থেকে অবসরের প্রায় দুই বছর পর স্থানীয় গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরে দুদক তদন্ত শুরু করলে ২০২৪ সালে তিনি দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে চলে যান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগেই বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ সামনে আসে। তদন্তের একপর্যায়ে তিনি দেশত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদের মালিকানাধীন সাভানা রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্কের নিয়ন্ত্রণ নেয় গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দুদকের আবেদনের পর ঢাকার একটি আদালত তার বিভিন্ন সম্পত্তি জব্দেরও নির্দেশ দেন।

বর্তমানে তার বিরুদ্ধে অর্ধডজনের বেশি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়েছে এবং আরেকটি মামলার বিচার চলছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মামলাগুলোর কার্যক্রম আরও গতি পায়। ২০২৫ সালে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন পাঠানো হয়। পরে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন দুবাইয়ের একটি শপিংমল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সেখানকার পুলিশ।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (২ আগস্ট)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের পর রোববার (২ আগস্ট) আগের নির্ধারিত দামেই বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন... বিস্তারিত