×

ঢাকা, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট গঠনের লক্ষ্য

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২০:৪৩:৪৬

শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিট গঠনের লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানকে সরকারের উচ্চশিক্ষা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি জানান, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির সহযোগিতায় এরই মধ্যে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও শিল্প খাতের অংশীদারত্বে প্রায় ২৫০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা-শিল্প সহযোগিতা ইউনিট স্থাপন এবং শিল্প খাতের সঙ্গে পদ্ধতিগত ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসি সেল এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, শিক্ষা ও শিল্প খাতের সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের চারটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। দ্বিতীয়ত, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানে যুক্ত করা। তৃতীয়ত, কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাঠ্যক্রম তৈরিতে শিল্পের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া। আর চতুর্থ উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সৃষ্ট জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে শিল্পায়নের সুযোগ তৈরি করা।

ইউজিসি সদস্য ড. মামুন বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরির উপযোগী করে তুললেই হবে না, তাদের চাকরি দেওয়ার সক্ষমতাও তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত ধারণা ও প্রযুক্তি শিল্প খাতে প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তরুণদের দক্ষতা অর্জন ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় সহায়তার জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে ৮০০ কোটি টাকার তহবিলের উদ্যোগ রয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নে ইউজিসির তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করা হবে।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার উদ্যোগের আওতায় নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নোবিপ্রবিকেও রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ওয়াই-ফাই ও অনলাইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের কাজও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গবেষণায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, গবেষণা প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার জন্য ইউজিসির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন তহবিলের গবেষণা বরাদ্দ প্রকল্পের যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতামূলকভাবে দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে।

দেশের জনমিতিক লভ্যাংশের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, তরুণ ও শিক্ষার্থীরা এই লভ্যাংশের বড় অংশ। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষা, আইসিটি, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়েও তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সকালে নোবিপ্রবির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন। সেখানে তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কাজ চলছে।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ প্রধান অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

আলোচনা সভায় নোবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাসান উদ্দীন এবং প্রাতিষ্ঠানিক মান নিশ্চিতকরণ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. আশাদুন নবী উপস্থিত ছিলেন।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত