×

ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

জিন্নাহর ছবি, স্মৃতিস্তম্ভ ও ওয়েবসাইট নিয়ে ঢাবির কঠোর অবস্থান

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২২:০০:০৪

জিন্নাহর ছবি, স্মৃতিস্তম্ভ ও ওয়েবসাইট নিয়ে ঢাবির কঠোর অবস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অনুমোদন ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ এবং শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ওয়েবসাইট চালুর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ অবস্থান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ব্যক্তিদের ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ডাকসুকে ঘিরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি সংবাদও তাদের নজরে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন।

ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ একটি ছাত্রপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান হলেও এর সব কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামো মেনেই পরিচালিত হতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ধারণ ও লালন করে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তবে ডাকসুর উদ্যোগে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে কলাভবনসংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে সিন্ডিকেট কিংবা উপাচার্যের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Dhaka University Order, 1973-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। আর Dhaka University Ordinances and Regulations-এর চতুর্দশ অধ্যায়ের ৪ ধারার নোটে বলা হয়েছে, ছাত্র সংসদকে যেকোনো সিদ্ধান্ত উপাচার্যের নির্দেশনা সাপেক্ষে নিতে হবে।

প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ দুটি স্থাপনের আগে সিন্ডিকেট বা উপাচার্যের অনুমোদন নেওয়া হয়নি এবং তাঁদের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। এ কারণে এ কার্যক্রমকে ডাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ডাকসুর পক্ষ থেকে অনুমোদন ছাড়াই ‘DU Evaluation’ নামে ওয়েবসাইট চালুর বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা ছাত্র সংসদ নিজেদের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়নব্যবস্থা চালু করতে পারে না। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রশাসনের অভিযোগ, ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মকাণ্ডকে আইন অনুযায়ী ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘টিচিং ইভ্যালুয়েশন’-এর জন্য নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নীতিমালাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ফলে অনুমোদিত নীতিমালার বাইরে আলাদা শিক্ষক মূল্যায়নব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার শামিল বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের দ্বৈত প্রশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা এবং বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অনুমোদন ছাড়া স্থাপনা নির্মাণ অথবা পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ার করা হয়েছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত