×

ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৩৩:৪৮

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে।

৩ হাজার ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পটিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি) উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে দেবে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। প্রকল্পটি ২০৩১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। সরকারি নথিপত্রে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন ডিজেলচালিত ট্রেনের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী হবে। একই সঙ্গে ট্রেনের গতিও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ঢাকা এবং এর দুই পাশের শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মধ্যে যানজট ও সড়কে গাড়ির চাপ কমাতে এই রুট গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট লিংক হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। পুরোনো ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের কারণে বর্তমানে ট্রেনগুলো কাঙ্ক্ষিত গতিতে চলতে পারে না। এ কারণে যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ট্রিপ দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।

এসব সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যেই রেলওয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এটি চালু হলে গাজীপুর, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে প্রতিদিন যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহন সুবিধা পাবেন।

প্রকল্পের আওতায় ট্রেন পরিচালনার ব্যবস্থা ডিজেলনির্ভরতা থেকে পুরোপুরি বিদ্যুতে রূপান্তর করা হবে। এ জন্য রেললাইনের ওপর ‘ওভারহেড ওয়্যার’ বা বিদ্যুতের তার বসানো হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে বিশেষায়িত ‘ট্রাকশন সাবস্টেশন’ নির্মাণ করা হবে।

নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ট্রেন চলাচলের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট’ (ইএমইউ) ট্রেন, বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন এবং কম্পিউটারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা প্রকল্পে যুক্ত করা হবে।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে অর্থনীতি ও পরিবহন খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় বৈদ্যুতিক ট্রেন দ্রুতগতিতে চলার পাশাপাশি দ্রুত থামতেও পারে। ফলে স্টেশনে থামার পর অল্প সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে যাতায়াতের সময় অর্ধেকের বেশি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৩ হাজার ৯৩ কিলোমিটার নেটওয়ার্কে ডিজেলচালিত ট্রেন পরিচালনা করছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মতে, বৈদ্যুতিক ট্রেনে প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক বেশি হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় অনেক কম। এ ব্যবস্থা একই সঙ্গে অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালু হলে পরিচালনা ব্যয় ৩৫ শতাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। একই সঙ্গে কার্বন নিঃসরণও ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কমবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভারতীয় রেল ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে তাদের ৬৫ হাজার ৩০০ কিলোমিটার ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের প্রায় ৯০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৮ হাজার ৮১২ কিলোমিটার বিদ্যুতায়ন করেছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে বৈদ্যুতিক ট্রাকশন চালুর জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও বিস্তারিত নকশার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ও প্রকল্পের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটেও বৈদ্যুতিক ট্রেন চলবে। এতে ট্রেনের গড় গতি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় কমে আসবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ