ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

টাইমস হায়ার ও কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার

২০২৬ মে ৩০ ১৫:৩৩:০৬

টাইমস হায়ার ও কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাবির জয়জয়কার

ঢাবি প্রতিনিধি: শিক্ষা ও গবেষণায় অসাধারণ উৎকর্ষ সাধনের স্বীকৃতিস্বরূপ বৈশ্বিক বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ র‍্যাঙ্কিংয়ে ধারাবাহিক অগ্রগতি বজায় রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক খ্যাতনামা শিক্ষা সাময়িকী 'টাইমস হায়ার এডুকেশন' (THE) এবং 'কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস' (QS) প্রকাশিত বিভিন্ন বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও বিষয়ভিত্তিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনন্য সাফল্য দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এই ধারাবাহিক অগ্রগতির জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি প্রকাশিত 'টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং'-এ এশিয়ার ৩৬টি দেশের ৯২৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৩০১-৩৫০তম স্থানে উঠে এসেছে, যা বিগত বছরে ছিল ৪০১-৫০০-এর মধ্যে। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

গবেষণা ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ের বিভিন্ন সূচকেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্কোর ৩১.৫-৩৪.৩ থেকে বেড়ে এবার দাঁড়িয়েছে ৩৮.৩-৪০.১। এছাড়া গবেষণার পরিবেশ সূচকে মান ১২.০ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.৭, গবেষণার মান সূচকে ৫৮.৮ থেকে বেড়ে ৭৪.৩ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সূচকে ২১.৪ থেকে বেড়ে ৩৩.২-এ উন্নীত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাফল্যের ধারা অন্যান্য প্রধান র‍্যাঙ্কিংয়েও প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান QS প্রকাশিত ‘QS World University Rankings’ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে ৫৮৪তম অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে।

পাশাপাশি 'কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং'-এ এশিয়ার মধ্যে ১১২তম হয়ে দেশের ভেতর প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাঙ্কিংয়েও বিশ্ববিদ্যালয়টি গতবারের তুলনায় ২০০ ধাপ এগিয়ে ৮০০-১০০০ অবস্থানের মধ্যে রয়েছে এবং কিউএস বিষয়ভিত্তিক টেকসই র‍্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে।

কিউএস বিষয়ভিত্তিক বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি বিভাগ স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে গতবছরের চেয়ে ১০০ ধাপ এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এখন ৪০১-৪৫০-এর মধ্যে, যেখানে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ ৫৫১-৬০০, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক বিভাগ ৫০১-৫৫০ এবং মেকানিক্যাল ও অ্যারোনটিক্যাল বিভাগ ৫০১-৫৭৫-এর মধ্যে রয়েছে। সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে ৫০ ধাপ এগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে সারাবিশ্বে ৪০১-৪৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে, যার অধীনে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্স বিভাগ ২৫১-৩০০, বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ৪০১-৪৫০, ইকোনমিক্স ৩৫১-৪০০ এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৩০১-৩৭৫ এর মধ্যে স্থান পেয়েছে। এছাড়া লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ক্যাটাগরিতে মেডিসিন বিভাগ ৬৫১-৭০০, ন্যাচারাল সায়েন্স ক্যাটাগরিতে ফিজিক্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি ৫৫১-৬০০ এবং আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৫০১-৫৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞান ও গবেষণার বৈশ্বিক অন্যান্য ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন অনন্য। দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত 'টাইমস হায়ার এডুকেশন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স র‍্যাঙ্কিং'-এ বিশ্বের ৯৪টি দেশের ৯১১টি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে বৈশ্বিক তালিকায় ৫২তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'স্কোপাস' ডাটাবেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ’ ম্যাগাজিন জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশের সংখ্যায় বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। পাশাপাশি অসাধারণ গবেষণাকর্মের জন্য প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এলসেভিয়ার প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষতাকে আন্তর্জাতিকভাবে সুদৃঢ় করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে এই ধারাবাহিক অগ্রগতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, গবেষণার মান, গবেষণা পরিবেশ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ সূচকে সার্বিক উন্নতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।

তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিগগিরই বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে উপাচার্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে নিরলসভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ