ঢাকা, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ

২০২৬ মে ৩১ ১৮:১২:৫১

পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই: ড. নিয়াজ আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে (ঢাবি) কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া এক বক্তব্য সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশেষ করে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে প্রতিমন্ত্রী নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল লক্ষ্যই হলো জনকল্যাণ ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য জ্ঞান সৃষ্টি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া। এ ক্ষেত্রে ‘পাবলিক’ ও ‘প্রাইভেট’ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তার মতে, এই দুটি শব্দ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থার ধরনকে নির্দেশ করে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সংকীর্ণ, অন্ধ-দলীয় ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণে দেশের সমাজ ও জাতি এমনিতেই নানা বিভাজনের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বিশেষ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে করা বিভেদমূলক, অহংকারী কিংবা উসকানিমূলক মন্তব্য এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া জাতীয় ঐক্যকে আরও দুর্বল করে।

ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, “আমরা সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মান করি— তা পাবলিক, নন-পাবলিক, কেন্দ্রীয়, স্থানীয় বা আঞ্চলিক যাই হোক না কেন। আমরা সবার সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা খাতের নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সাম্প্রতিক সময়ে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণার বেশ কিছু আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত উদাহরণ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক নতুন ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়েও গবেষণামুখী শিক্ষক রয়েছেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এসব শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান জানিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আত্মতুষ্টি বা অহংকারের উদ্দেশ্যে নয়, বরং বাস্তবতার নিরিখে বলা যায় যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান উন্নয়নের জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে এবং কিছু ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। তবে এখনও আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ববি হাজ্জাজের মন্তব্য প্রসঙ্গে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, যিনি এই বিতর্কের সূত্রপাত করেছিলেন, তিনি ইতোমধ্যে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। পাশাপাশি যারা বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন, তারাও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট সবাই একই শিক্ষা সম্প্রদায়ের অংশ। তাই অতীতের বিতর্কে আটকে না থেকে ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, সামনে অনেক কাজ রয়েছে এবং সেই পথচলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ