ঢাকা, রবিবার, ৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩

লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল

২০২৬ মে ০৩ ০৮:৩৫:১৭

লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এরই অংশ হিসেবে আর্থিক সক্ষমতা বা নিট সম্পদের ঘাটতি থাকায় ‘এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড’-কে ছয় মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে কমিশন। এই সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হতে পারে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালকে তাদের নিট সম্পদ পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ৯০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি আগামী ছয় মাসের মধ্যে তারা এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তবে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে কমিশন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিকে অন্যান্য বিধিবিধান পরিপালনে শিথিলতার জন্য দাপ্তরিক পত্রের মাধ্যমে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

কেবল সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানই নয়, তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে ফান্ডের ট্রাস্টিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনাধীন ‘এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ড’-এর ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে (বিজিআইসি) সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘এটিসি শরিয়াহ ইউনিট ফান্ড’-এর ট্রাস্টি হিসেবে বিধিবিধান লঙ্ঘনের দায়ে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) কঠোরভাবে সতর্ক করেছে বিএসইসি।

এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনকে এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকি এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই ট্রাস্টি ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সোহেল নাদিম রহমান জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও তারা বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী সম্পদের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান অত্যন্ত জরুরি। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ও ট্রাস্টিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারবাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

এমজে/

শেয়ারবাজারের বিশ্লেষণ ও ইনসাইড স্টোরি পেতে আমাদের পেজ ফলো করুন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

দেশের বাজারে নাটকীয়ভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ফের কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত