ঢাকা, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
গিনেস বুকে নাম তুললেন মঠবাড়িয়ার সিফাত আকন
নিজস্ব প্রতিবেদক: চোখ বাঁধা অবস্থায় মাত্র ১০ দশমিক ৩২ সেকেন্ডে ১০টি সার্জিক্যাল মাস্ক পরিধান করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ধনীসাফা ইউনিয়নের ফুলজুড়ী গ্রামের সিফাত আকন (১৮)। এই ব্যতিক্রমী অর্জনের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল তার এই রেকর্ডের স্বীকৃতি প্রদান করে। এর আগে জানুয়ারি মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ রেকর্ডের জন্য আবেদন করেন।
সিফাত আকন জানান, প্রায় চার বছর আগে একটি পত্রিকায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড নিয়ে প্রতিবেদন পড়ে তার আগ্রহ জন্মায়। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন রেকর্ড নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। করোনা পরিস্থিতির সময় মাস্ক ব্যবহার বাড়ায় তিনি মাস্ক পরিধানকে কেন্দ্র করেই রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা করেন।
তিনি আরও জানান, পূর্বে এই রেকর্ডটি একজন ভারতীয় ১১ দশমিক ৫৪ সেকেন্ডে করেছিলেন। সেটি ভাঙার লক্ষ্য নিয়েই তিনি অনুশীলন শুরু করেন। তবে সঠিক নির্দেশনার অভাবে শুরুতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে।
গিনেস রেকর্ডের নিয়ম ও প্রক্রিয়া জানতে তিনি ফেসবুক ও ইউটিউবে অনুসন্ধান করেন এবং সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলেও যোগাযোগ করেন। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও দিকনির্দেশনার ঘাটতি থাকলেও তিনি অনুশীলন চালিয়ে যান। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর ছুটির সময়টায় তিনি নিয়মিত অনুশীলনে মনোযোগ দেন।
শুরুর দিকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ২৫-২৬ সেকেন্ড সময় লাগলেও ধীরে ধীরে তিনি সময় কমিয়ে আনতে সক্ষম হন। অনুশীলনের সময় তার মা, ছোট ভাই এবং বন্ধু ইমন তাকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন। ১৮ জানুয়ারি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ তিনি গিনেস কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন এবং পরে ২৮ এপ্রিল ই-মেইলের মাধ্যমে স্বীকৃতি পান। খবরটি পাওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা আনন্দিত হন।
সিফাত উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেছেন এবং বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার বাবা আবদুল জলিল একজন বনরক্ষী এবং মা গৃহিণী।
পরিবার ও স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতে সিফাত আরও আন্তর্জাতিক রেকর্ড গড়ে দেশকে গর্বিত করবেন।
ফুলজুড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মামুন হোসেন বলেন, সিফাত দীর্ঘদিন কঠোর পরিশ্রম করে এই রেকর্ড অর্জন করেছে, যা পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। স্থানীয়রা তার এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের প্রত্যাশা করেছেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার সিফাত আকনকে কার্যালয়ে ডেকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান এবং তার ভবিষ্যৎ সফলতার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- ৬৪ জেলায় পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ, আবেদন ১৩ অক্টোবর
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৫ অক্টোবর)
- প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে ৫৩৮ পদে নিয়োগ, আবেদনের শেষ সময় ৬ অক্টোবর
- ঢাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ
- মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ, বাংলাদেশে দেখবেন যেভাবে
- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে স্কেল নিয়ে যা জানা গেল
- ‘রইদ’-এর ঝুলিতে তিন পুরস্কার, সেরা অভিনেত্রী নাজিফা তুষি
- শিশুশ্রম বন্ধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের
- ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়ল
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
- প্রধান শিক্ষক নিয়োগে হাইকোর্টের রায় স্থগিত
- ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি