ঢাকা, সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩

কৃষিখাতে মুক্তা চাষ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

২০২৬ মে ০৪ ১৭:৩৪:১৭

কৃষিখাতে মুক্তা চাষ যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি খাতে আধুনিকায়ন ও বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে মুক্তা চাষকে কৃষির অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে চিংড়ির পোনা উৎপাদনে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তবে প্রয়োজনে আমদানির ক্ষেত্রে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২০২৬-এ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, কৃষি এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিন উর রশিদ বলেন, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সরাসরি সংযোগ থাকায় কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের অগ্রগতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে। নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ঋণ সুবিধা, প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তাই কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিও আরও সুদৃঢ় হবে।

দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয় ও আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় দেশি মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রামভিত্তিক মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং সাধারণ মানুষ সহজে মাছ পেতে পারে।

কীটনাশকের অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কীটনাশক ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ প্রশাসনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর ভূমিকা রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসকরা দক্ষতা, সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিয়েছেন, যা জনগণের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক সময় ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচিতি থাকলেও বর্তমানে সরকার মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জেলেদের সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভিজিএফ কর্মসূচির পাশাপাশি সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশকে একটি স্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

স্বর্ণের দামে রেকর্ড পতন

দেশের বাজারে নাটকীয়ভাবে কমছে স্বর্ণের দাম। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দাম ফের কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।... বিস্তারিত