ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

রাজধানীর যেসব মোড়ে বসবে এআই ক্যামেরা

২০২৬ জুন ১৮ ১৯:০৭:৫০

রাজধানীর যেসব মোড়ে বসবে এআই ক্যামেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফল পাওয়ার পর প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ডিএমপির সঙ্গে যুক্ত থাকবে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন বিষয়ক সভায় এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, প্রধান সড়কগুলোর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করতে ধাপে ধাপে এই আধুনিকায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে এতে অংশ নেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

সভায় জানানো হয়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ বা বিশেষ তহবিলের প্রয়োজন হবে না। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুলিশের নিজস্ব তহবিল থেকেই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

এর আগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, বাংলামোটর এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করা হয়।

দেশীয় প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এসব সিগন্যাল বাতি তৈরি করে। এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণের সুযোগও রয়েছে।

সিগন্যাল স্থাপনের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এবং সমন্বয় করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।

চলতি বছরের ৭ মে এসব ট্রাফিক পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করে ডিএমপি। এআই-নির্ভর ক্যামেরার মাধ্যমে সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্তের সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে।

পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো, আইন লঙ্ঘন শনাক্ত এবং যান চলাচল ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডিটিসিএ সূত্র জানায়, ঢাকায় প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয় ১৯৬০-এর দশকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় ৬৮টি স্থানে সিগন্যাল বাতি স্থাপন করা হলেও সেগুলো কার্যকর হয়নি এবং ২০০৯ সালের মধ্যে অচল হয়ে যায়।

এছাড়া ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে আরও ৯১টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হলেও তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে জাইকার ঋণে চারটি ইন্টারসেকশনে এআই-সমৃদ্ধ সিগন্যাল স্থাপন করা হলেও সেগুলোও কিছুদিন পর অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ফলে এআইনির্ভর নতুন এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এর ধারাবাহিকতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ