ঢাকা, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

বিয়ের এক বছর পরই কেন কমে যায় নারীদের সন্তুষ্টি?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:৫০:২৩

বিয়ের এক বছর পরই কেন কমে যায় নারীদের সন্তুষ্টি?

ডুয়া ডেস্ক: বিয়ে নিয়ে প্রচলিত এক প্রবাদ আছে ‘বিয়ের লাড্ডু যে খায়, সে পস্তায়; আর যে খায় না, সেও পস্তায়।’ যদিও এ কথাটি নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, বাস্তবে পুরুষরা বন্ধু বা বিবাহিত আত্মীয়দের কাছ থেকে এ কথা বেশি শুনে থাকেন। তাদের অভিজ্ঞতায়, বিয়ের পর জীবনধারায় এক ধরনের অশান্তি এসে পড়ে। তবে নারীরা সবসময় এ দাবির সঙ্গে একমত হন না; বরং অনেক নারী মনে করেন, বিয়ের পর অসন্তুষ্টির পাল্লাটা তাদের দিকেই বেশি ঝুঁকে থাকে।

সম্প্রতিক এক গবেষণা এই বিষয়টিতে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বিয়ের পর বা সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস শুরু করলে পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সন্তুষ্টি অনুভব করেন। নারীদের ক্ষেত্রে hingegen, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্তুষ্টি কমে এবং অসন্তুষ্টি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।

গবেষকেরা মনে করেন, নারী ও পুরুষের জন্য ‘সন্তুষ্টি’ ধারণা ও তার অনুভূতির সময়কাল আলাদা হতে পারে। বিয়ের সামাজিক মোহ, বয়সের ব্যবধান বা প্রচলিত রীতিনীতির চেয়েও সম্পর্কের স্বচ্ছতা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং একে অপরের প্রতি সম্মান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সবার সুখের সংজ্ঞা এক নয়, তাই নিজের মানসিক প্রশান্তি এবং ভালো লাগার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া সবচেয়ে যুক্তিসংগত।

বিয়ে নাকি বিয়ের পরিকল্পনা

বন্ধুমহলের রসিকতা ‘বিয়ের পর সব সুখ ফুরিয়ে যায়’ কেবল কৌতুক নয়, বরং বাস্তবতার আভাস দিতে পারে। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেলিন্ডা হিউইটের নেতৃত্বে পরিচালিত ১৮ বছরব্যাপী গবেষণায় প্রায় ২,৮২০ জনের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা হয়েছে।

গবেষণা অনুযায়ী, নারীর জীবনের সবচেয়ে সুখের সময় আসে যখন তিনি প্রেম বা লিভ-ইনের সম্পর্কের মধ্যে থাকেন অথবা ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা করছেন। বিয়ের আগে সম্পর্কের লক্ষ্য, আয়োজন, হানিমুন এবং সঙ্গীর প্রতিশ্রুতি নারীকে মানসিক পূর্ণতা দেয়। তবে বিয়ের এক বছর পার হতেই সেই সন্তুষ্টি কমতে শুরু করে, এমনকি বিয়ের আগের স্তরের চেয়েও নীচে নেমে যায়। এর পেছনে সামাজিক প্রত্যাশা ও পারিবারিক চাপ অন্যতম কারণ।

পুরুষরা বিয়ের পর সবচেয়ে সুখী থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে সম্পর্কের নিশ্চয়তা বা সম্ভাবনা না থাকলে মানসিক প্রশান্তি বা স্বাস্থ্যগত উন্নতি লক্ষ্য করা যায় না। অর্থাৎ সম্পর্কের নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ ও প্রতিশ্রুতিই নারীর সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি।

বয়সের ব্যবধান ও সম্পর্কের মান

‘রিলেশনশিপ থেরাপি’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সে ছোট পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কিত নারীরা তুলনামূলক বেশি সুখী। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নারীদের উপর করা জরিপে এমন সম্পর্ক নারীর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে, মানসিক বুদ্ধিমত্তা ভালো রাখে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীরা তাদের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত বিকাশ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্যে খোলামেলা সম্পর্ক উপভোগ করেন। যদিও সমাজে বয়সে ছোট সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, তথাপি এসব সম্পর্কের রসায়ন ও গভীরতা অনেক সময় সমবয়সী সম্পর্কের চেয়েও বেশি হয়।

সম্পর্কের প্রকৃত শক্তি

গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ভালোবাসা, সুখ বা সন্তুষ্টি কোনো প্রথাগত ছকে বাঁধা নয়। সুখ মূলত সম্পর্কের গুণগত মানে নিহিত। বিয়ের আগে ব্যক্তিগত সত্তা বজায় থাকে বেশি, কিন্তু বিয়ের পর সামাজিক দায়িত্ব ও প্রত্যাশার চাপের কারণে সত্তা হারালে সন্তুষ্টি কমে যায়। বয়স বা অন্যান্য পার্থক্য যতই থাকুক, যেখানে একজন নারী নিজেকে প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা এবং গুরুত্ব পায়, সেখানেই প্রকৃত সুখ ও সন্তুষ্টি স্থায়ী হয়।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

মঙ্গলবার থেকে বাজারে মিলবে ১০ টাকার নতুন নোট

মঙ্গলবার থেকে বাজারে মিলবে ১০ টাকার নতুন নোট

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংক আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বাজারে ছাড়ছে ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইনের ১০ টাকা... বিস্তারিত