ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

খোলামেলা সম্পর্কে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১২:৪৫:৪৬

খোলামেলা সম্পর্কে ঝুঁকছে নতুন প্রজন্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: এক সময় প্রেম বা সম্পর্ক মানেই ছিল একনিষ্ঠতা আর আজীবন দায়বদ্ধতা। একাধিক সম্পর্কে জড়ানোকে দেখা হতো সামাজিক অপরাধ হিসেবে। তবে সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের ভাবনাও। বিশেষ করে বর্তমান প্রজন্ম জেনারেশন জি সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের চেনা ছক ভেঙে নতুন পথে হাঁটছে। ভালো না লাগলে সম্পর্ক টেনে নেওয়ার ধারণার বিপক্ষে তারাই সবচেয়ে সোচ্চার। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ছবি উঠে এসেছে।

বিবাহবহির্ভূত ডেটিং প্ল্যাটফর্ম গ্লিডেন পরিচালিত এই সমীক্ষায় অংশ নেন এক হাজার ৫১০ জন। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মোট উত্তরদাতার ৬৯ শতাংশ মনে করেন খোলামেলা বা মুক্ত সম্পর্কের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এই মানসিক পরিবর্তন শুধু বড় শহরেই সীমাবদ্ধ নয়, ছোট শহরগুলোতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দিল্লি, মুম্বাই, আমেদাবাদ, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু ও কলকাতার ৬৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, ভারত ধীরে ধীরে মুক্ত সম্পর্কের ধারণার প্রতি আরও উন্মুক্ত হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ২২ শতাংশ এখনও একবারের বিয়ে ও একনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই শহরগুলোর মধ্যে মুক্ত সম্পর্কের বিষয়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে রাজধানী দিল্লি।

সমীক্ষা অনুযায়ী, দিল্লির প্রায় ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা একাধিক বিয়ে বা সম্পর্কে আপত্তি দেখেন না। যদিও ১৫ শতাংশ এখনও এ ধারণার বিরোধিতা করেছেন। মুম্বাইয়ে ৬৯ শতাংশ খোলামেলা সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন, বিপরীতে ২৬ শতাংশ মনোগামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বেঙ্গালুরুতেও ৭০ শতাংশ মানুষ সম্পর্কের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী।

এই পরিবর্তনের ছাপ পড়েছে জয়পুর, লুধিয়ানা, পাটনা, কোচি, গুয়াহাটি ও ইন্দোরের মতো তুলনামূলক ছোট শহরগুলোতেও। সমীক্ষায় দেখা গেছে, এসব শহরের প্রায় ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা স্বাধীন ও বহুমুখী সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য গুয়াহাটির অবস্থান। সেখানে ৮৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মুক্ত সম্পর্কের ধারণাকে সমর্থন করেছেন। জয়পুরে এই হার ৭৭ শতাংশ, লুধিয়ানায় ৭৪ শতাংশ। এমনকি পাটনার মতো শহরেও ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা একাধিক সম্পর্কের পক্ষে মত দিয়েছেন।

সমীক্ষা বলছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে সামাজিক ট্যাবু ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে। বিয়ে ও প্রেমের সংজ্ঞা নতুন করে ভাবছে তরুণ প্রজন্ম, যেখানে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও মানসিক স্বচ্ছন্দ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত