ঢাকা, রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

২০২৬ জানুয়ারি ২৫ ১২:৩৩:৩৯

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় ফের ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা, ইরান ইস্যু এবং বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তেলের দাম এক সপ্তাহের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ৮২ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫ ডলার ৮৮ সেন্টে, যা ১৪ জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই দিনে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম বেড়ে হয় ব্যারেলপ্রতি ৬১ ডলার ৭ সেন্ট। আগের দিনের তুলনায় এটি ১ ডলার ৭১ সেন্ট বা প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সামগ্রিকভাবে গত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশেরও বেশি।

তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি মূলত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের দমন বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় চালু হলে তেহরানকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। এই বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কাজাখস্তানেও বড় ধরনের উৎপাদন সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র তেনগিজ থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। শেভরনের নেতৃত্বাধীন অপারেটর তেনগিজচেভরইল জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পর তেলক্ষেত্রটি এখনও বন্ধ রয়েছে।

মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছিল।

এর পাশাপাশি ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে জড়িত ৯টি জাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট ৮টি প্রতিষ্ঠানের ওপর শুক্রবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ওপেকের হিসাব অনুযায়ী, ইরান দৈনিক প্রায় ৩২ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর এটি ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম উৎপাদক। পাশাপাশি ইরান বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ চীনের অন্যতম বড় সরবরাহকারী।

কাজাখস্তানের তেল খাতের সংকট আরও গভীর হয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্য অনুযায়ী, তেনগিজ তেলক্ষেত্র থেকে দেশটির মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক আসে। চলতি মাসজুড়ে এই তেলক্ষেত্র বন্ধ থাকলে জানুয়ারিতে কাজাখস্তানের দৈনিক উৎপাদন ১০ থেকে ১১ লাখ ব্যারেলে নেমে যেতে পারে, যেখানে স্বাভাবিক উৎপাদন ১৮ লাখ ব্যারেল।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও ইউরোপ ইস্যুতে ট্রাম্পের অবস্থান তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি করেছিল। যদিও ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি প্রত্যাহারের পর দাম কিছুটা কমে যায়। তবে ইরান সংক্রান্ত অবস্থান আবার বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৩৯ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। এরপর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্থরতা, বিশেষ করে চীনের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বর্তমানে ওপেকের উৎপাদন নীতির কারণে তেলের দাম ৬০ থেকে ৭০ ডলারের মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাজারে একাধিক উৎস থেকে তেল সরবরাহ থাকায় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে না।

জ্বালানি তেল ও মূল্যস্ফীতি

জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে। ২০২২ সালে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত