ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

ম্যারিকোর বিরুদ্ধে ১৮২৩ কোটি টাকার মামলা

২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:৪৯:২২

ম্যারিকোর বিরুদ্ধে ১৮২৩ কোটি টাকার মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান চেয়ে শ্রম আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের সাবেক শ্রমিকরা। শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের প্রায় ১৭ বছরের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ঢাকার শ্রম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ৯৪ জন সাবেক শ্রমিক।

২০২৫ সালের ৮৬৫ নম্বর মজুরি মামলায় তারা শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিল (ডব্লিউডব্লিউএফ) থেকে নিজেদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবি তুলেছেন। মামলাটিতে মোট দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ১৮২৩ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বিষয়টি তুলে ধরেন মামলার প্রথম বাদী ও এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ কার্যকর হওয়ার পর ওই আইনের ২৩৪ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শ্রমিক অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা বাধ্যতামূলক ছিল। পাশাপাশি ২৩২ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন এক কোটি টাকা বা স্থায়ী সম্পদের মূল্য দুই কোটি টাকা ছাড়ালে এসব তহবিল গঠন আইনগতভাবে অপরিহার্য।

তার অভিযোগ, শ্রমিকদের একাধিকবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কোনো তহবিল গঠন করেনি। যদিও ২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে তহবিল গঠন করা হয়, তবে পূর্ববর্তী আট বছরের প্রাপ্য অর্থ শ্রমিকদের দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ২০১৪ সালে আইনি নোটিশ পাঠানো হলেও কোম্পানি কর্তৃপক্ষ তহবিলসংক্রান্ত পাওনা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

তিনি আরও জানান, ওই পরিস্থিতিতে ২০১৪ সালে ম্যারিকোর সাবেক ১৯ জন শ্রমিক শ্রম আদালতে ৬৯১ নম্বর মজুরি মামলা করেন। বর্তমানে ওই মামলাসহ দুটি মামলায় মোট ১১৩ জন শ্রমিক যুক্ত রয়েছেন, যারা ২০০৬ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তহবিল ও বিনিয়োগ থেকে অর্জিত লভ্যাংশের দাবি করছেন।

মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকার পর দেশের দুটি স্বনামধন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্মের মাধ্যমে কোম্পানির প্রকাশিত অডিট রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে প্রায় ১৮২৩ কোটি টাকার পাওনার হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আদালতে দাখিল করা হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৯০ শতাংশ শেয়ারের মালিক ম্যারিকো লিমিটেড (ভারত) এই সময়ে বিপুল অঙ্কের মুনাফা ভারতে পাঠিয়েছে। শুধু ২০২৪–২৫ অর্থবছরেই ৩৮৪০ শতাংশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করে প্রায় ১০৭৭ কোটি টাকা রেমিট করা হয়েছে, যা ১৭ বছরের মোট রেমিটযোগ্য অর্থের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকেও ৬০০ শতাংশ ডিভিডেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে ভারতে মুনাফা রেমিট বন্ধ রাখার জোর দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে মাহফুজুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন সেবা দেওয়ার পর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হলে শ্রমিকদের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই শেষ আশ্রয়। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখেই আমরা আইনের আলোকে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে এক্স ম্যারিকোনিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত