ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে ছিল একটি ‘আমানত’ : বিদায়ী বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য 

২০২৬ মার্চ ১৭ ১৮:৫৩:২২

উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে ছিল একটি ‘আমানত’ : বিদায়ী বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য 

নিজস্ব প্রতিবেদক: উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে ছিল একটি ‘আমানত’। দায়িত্বকালে আমাদের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে, কিছু ব্যর্থতাও আছে। উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার কাছে এটি ছিল ‘উদ্ধারকারী মিশন’। আমি কখনোই এটিকে ‘চাকরি’ মনে করিনি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেয়া এক লিখিত বার্তায় বিদায়ী বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

তিনি বলেন, আমি মনে করেছি, আমার দায়িত্ব এখন শেষ হয়েছে। একটি আপৎকালীন সময়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্রদের অনুরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল, প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উদয়াস্ত কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। এখন আর সেই আপৎকালীন নাজুক পরিস্থিতি নেই।

'আমার নিয়োগপত্রেও ‘সাময়িক’ নিয়োগের কথাটি লেখা ছিল। চেষ্টা করেছি, সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল অবস্থা থেকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার। এখন বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। এখনো সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। আপৎকালীন পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি।'

তিনি আরও বলেন, দায়িত্বকালে আমাদের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে, কিছু ব্যর্থতাও আছে। উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর কয়েকটি- বিনীতভাবে আপনাদের জানাচ্ছি।

র‌্যাঙ্কিং ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি: টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গতবারের তুলনায় ২০০ ধাপ এগিয়ে ৮০০-১০০০ অবস্থানের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া, কিউএস বিষয়ভিত্তিক টেকসই র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ করে বিশ্বসেরা টেকসই বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৬৩৪তম স্থান লাভ করেছে।

ডাকসু নির্বাচন: ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

জন ও ছাত্র কল্যাণমূলক কর্মসূচি: আবাসিক হলে গণরুম প্রথা বিলুপ্তিকরণ।

আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গণরুম প্রথার কারণে শিক্ষার্থীদের মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করতে হতো, মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং প্রভাবশালী ছাত্রনেতা-নেত্রীদের অবৈধ সিট দখলের ফলে অনেক সময় একটি কক্ষেই ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য করা হতো। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘদিনের গণরুম প্রথা বাতিল করে মেধা ও প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের নীতিমালা চালু করি, যা অতীতে কোন সময় হয়নি। ফলে হলগুলোর আবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, ন্যায়সঙ্গতা ও স্বচ্ছতা প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রথম বর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা আবাসনের সুযোগ পাচ্ছে।

এছাড়া, হলগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাবারের মানোন্নয়ন, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত বাজেটের বাইরে ব্যয়: আবাসিক হলগুলো প্রায় ৫.৫ কোটি টাকার আসবাবপত্র ও প্রায় ১.৫ কোটি টাকার ফ্যান সরবরাহ করা হয়েছে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৫.২৫ কোটি টাকা, ভূমিকম্প পরবর্তী বিভিন্ন হলের সংস্কার কাজে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশিট ও সার্টিফিকেট সেবায় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ: শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশীট ও সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ট্রান্সক্রিপ্টের অনলাইন আবেদন পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে এবং আবেদন ও উত্তোলনের ধাপসমূহ ওয়েবসাইটে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

অনলাইনে ভর্তি ফি দেয়া: ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথমবর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের জামানতসহ বিভিন্ন ফি অনলাইনে বা নিজ নিজ অফিসে জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দেওয়ার ভোগান্তি দূর হয়েছে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিক্ষার্থী বান্ধব হয়েছে।

এসপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত